মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে যুবককে হত্যার অভিযোগ

রাজধানীর মালিবাগে ‘হলি লাইফ মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে’ ইয়াছিন মিয়া (১৯) নামে এক যুবককে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবার অভিযোগ করেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। তবে নিরাময় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বলছে, ইয়াছিন বাথরুমে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

নিহতের বাবা মাসুম মিয়া জানান, পরিবার নিয়ে মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকায় থাকেন তিনি। এক ছেলে, দুই মেয়ের মধ্যে ইয়াছিন ছিল সবার ছোট। ইয়াছিন হঠাৎ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। তার একটা মোটরসাইকেল থাকা সত্ত্বেও আরেকটা মোটরসাইকেল কিনে দিতে বায়না ধরে। কিনে না দিলে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করার হুমকি দেয়। এসব কারণে ২২ জানুয়ারি মাসিক ২২ হাজার টাকা খরচে ইয়াছিনকে হলি লাইফে ভর্তি করান।

মাসুম মিয়া জানান, গত বৃহস্পতিবার ছেলের সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি। কিন্তু তাকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। পরে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে চলে আসেন। গতকাল দুপুর ১২টায় নিরাময় কেন্দ্র থেকে ফোন করে তাড়াতাড়ি যেতে বলা হয়। সেখানে গিয়ে দেখি, আমার ছেলেকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে আনছে তারা। এসময় তারা জানায়, ইয়াছিন অসুস্থ, তাকে হাসপাতালে নিতে হবে। তাৎক্ষণিক তাকে খিদমাহ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, ইয়াছিন বাথরুমে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

মাসুম মিয়ার অভিযোগ, তার ছেলে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেনি। তাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে। পরে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন। তিনি বাথরুমে গিয়েও দেখেছেন, ওখানে গলায় ফাঁস দেওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই।

হাতিরঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, ইয়াছিন ইয়াবা সেবন করত। এছাড়া কিছুটা মানসিক সমস্যাও ছিল বলে শুনেছি। মৃতের বাম পায়ের গোড়ালিতে পুরাতন আঘাতের দাগ ও বাম হাতে পুরনো কাটা চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ বিষয়ে জানতে হলি লাইফ মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিনকে ফোন করলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করেন।

গতকাল সন্ধ্যায় মৃত ইয়াছিনের ময়নাতদন্ত করেন ঢামেক ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, মরদেহের গলায় দাগ, বাম হাতের কনুইয়ের ওপরে ও বাম পাঁজরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে গলা থেকে টিস্যু, ভিসেরা ও রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলোর রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।