বিশ্বজুড়ে করোনার টিকা প্রয়োগের মধ্যেই আসছে ইতিবাচক-নেতিবাচক সংবাদ। টিকাদান শুরুর পর থেকে সংক্রমণ কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। তবে ইউরোপসহ অনেক অঞ্চলেই টিকায় আগ্রহ হারাচ্ছে মানুষ। এর মধ্যেই যুক্তরাজ্য সরকারের করা এক গবেষণা দেখাল নতুন আশার আলো।
বিবিসি জানাচ্ছে, টিকাদান কর্মসূচি শুরুর তিন থেকে চার সপ্তাহের মাথায় ৮০ বছর বয়সীদের ওপর জরিপ চালিয়ে দেশটির জনস্বাস্থ্য বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। এতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সবাই ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন।
ওই গবেষণায় দেখা গেছে, ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা অথবা ফাইজার-বায়োটেক উৎপাদিত করোনা টিকার প্রথম ডোজ নিলেই কভিড-১৯ রোগের স্বাস্থ্যঝুঁকি ৮০ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পায়। পাশাপাশি, সত্তরোর্ধ্ব ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে টিকা নেওয়ার পর করোনা সংক্রমণের লক্ষণ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায় বলেও এই গবেষণায় উঠে এসেছে।
দেশটির সরকারি বিজ্ঞানীরা এই তথ্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে সম্পূর্ণ সুরক্ষার জন্য টিকার দুটি ডোজই নেওয়া প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
গত সোমবার যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এক ব্রিফিংয়ে নতুন ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাজ্যে কী কারণে ৮০ বছরেরও বেশি বয়সী ব্যক্তিদের আইসিইউতে ভর্তির পরিমাণ কমেছে তা এই জরিপের ফল দ্বারা সহজে অনুমান করা যায়।’দেশটির স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশা, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই চলমান টিকাদান কর্মসূচির সুফল পেতে যাচ্ছেন তারা। তবে কভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে সঠিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে টিকার দ্বিতীয় ডোজের কোনো বিকল্প নেই বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত দুই কোটিরও বেশি মানুষকে প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। যা দেশটির মোট প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের এক-তৃতীয়াংশ।