বিরোধী দলের নেতা অ্যালেক্সি নাভালনিকে বিষপ্রয়োগে হত্যাচেষ্টায় রাশিয়া সরকারের জড়িত থাকার ‘প্রমাণ’ পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জেরে দেশটি রাশিয়ার সাত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও নার্ভ এজেন্ট নোভিচক উৎপাদনে জড়িত ১৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো জো বাইডেন প্রশাসন এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।বিবিসি বলছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের তুলনায় বাইডেনের অবস্থান অনেক কঠোর, আর তা শুরুতেই প্রয়োগ করা হলো।
বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, নাভালনিকে হত্যাচেষ্টার বিষয়টি রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহারের ভয়ংকর প্রয়োগ, যা রাশিয়া করেছে। গত মাসে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের পর হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে বলেছিল, ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপে নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের ব্যাপারে সতর্ক করেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
হোয়াইট হাউজের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাশিয়ার যেসব কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রকে বা তার মিত্রদের ক্ষতি করে, সেসবের বিরুদ্ধে নিজেদের স্বার্থরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র শক্ত পদক্ষেপ নেবে বলে পুতিনকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বাইডেন।
গত বছর সাইবেরিয়া থেকে মস্কোয় ফেরার পথে নাভালনিকে নার্ভ এজেন্ট নোভিচক দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। বিষপ্রয়োগে অসুস্থ নাভালনি কোমায় চলে গিয়েছিলেন। পরে জার্মানিতে দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।
গত ১৭ জানুয়ারি জার্মানি থেকে মস্কো ফেরার পর বিমানবন্দরেই আটক হন নাভালনি। পরে সাজা স্থগিতের শর্ত লঙ্ঘনের জন্য মস্কোর একটি আদালত তাকে সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।
নাভালনির মুক্তির দাবিতে তার সমর্থকরা রাশিয়া জুড়ে বিক্ষোভ করছেন। তাদেরও অভিযোগ, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশেই নাভালনিকে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল।
নাভালনিকে বিষপ্রয়োগের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে রুশ সরকার। বরং তারা সত্যিই নাভালনিকে নার্ভ এজেন্ট প্রয়োগ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা দ্রুত নাভালনিকে মুক্তি দিতে বলেছেন। তাকে মুক্তি না দিলে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পর এখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকেও রাশিয়ার ওপর একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।