খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়াতে আবেদন

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়াতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে তার পরিবার। পাশাপাশি ইতিপূর্বে দেওয়া দুই শর্ত (বাসায় থেকে চিকিৎসা ও বিদেশ না যাওয়া) শিথিলের আবেদনও করা হয়েছে। আগামী ২৪ মার্চ খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় দফা মুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার পরিবারের এক সদস্য। তিনি বলেন, ‘আগে দুই দফায় শর্ত শিথিলের আবেদন করা হলেও সরকার তা দেয়নি। এবার তাদের আশা সরকার খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসা নিতে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেবেন। করোনাভাইরাসের কারণে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি।’

বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে প্রস্তুতি আছে কি না জানতে চাইলে জিয়া পরিবারের ঐ সদস্য বলেন, ‘আমাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি আছে। সরকার অনুমতি দিলে আমরা দ্রুত তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্য নিয়ে যেতে পারব। তাছাড়া ঢাকায় যুক্তরাজ্য হাই কমিশনার ইতিপূর্বে এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছিলেন।’    

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ। তারা তার মুক্তি চেয়েছিলেন চিকিৎসা করাবেন বলে। কিন্তু যখন তিনি মুক্তি পান তখন করোনা মহামারনীর কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়াটা সম্ভব হয়নি। তা ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন সর্বশেষ চিকিৎসা নিয়েছেন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে।’

জানা গেছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকার ও পরিবারের সমঝোতার মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে লন্ডনে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এসকান্দার ব্রিটিশ হাইকমিশনে তার এবং বোন খালেদা জিয়ার পাসপোর্টসহ কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। এর আগে কূটনৈতিক মহলও এ নিয়ে বেশ উদ্যোগী হয়। সরকার অনুমতি দিলে ব্রিটিশ হাইকমিশন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য ভিসা দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এ প্রসঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসন জানিয়েছিলেন, সরকার অনুমতি দিলে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য তারা ব্রিটেন যেতে ভিসা দেবেন।

গত মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এ আবেদনপত্র জমা দেন। এটি বিএনপি নেত্রীর পক্ষে তার পরিবারের তৃতীয় দফা আবেদন।

এর আগে খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ দ্বিতীয় দফা বাড়ানো হয়। তখন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে দাখিলকৃত আবেদন এবং আইন ও বিচার বিভাগের আইনগত মতামতের আলোকে ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর’ এর ধারা-৪০১(১) এ দেওয়া ক্ষমতাবলে দুটি শর্তে (বাসায় থেকে চিকিৎসা ও বিদেশ না যাওয়া) তার (খালেদা জিয়ার) দন্ডাদেশ ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হলো।’ 

পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আবেদনটি তারা পেয়েছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরে সিদ্ধান্ত জানাবেন।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এস্কান্দার আবেদনটি গত মঙ্গলবার আমার হাতে দিয়েছেন। এতে শর্ত শিথিল করারও আবেদন করা হয়েছে। আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত জানাব। এ ব্যাপারে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত জানাবে সরকার। আবেদনে সাজা মওকুফ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।’

 দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর গত বছরের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেওয়া হয়। যার মেয়াদ ২৪  সেপ্টেম্বর শেষ হয়। তার আগে খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষে মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হলে দ্বিতীয় দফায় আবারও ছয় মাস মেয়াদ বাড়ানো হয়।

মুক্তির পর ৭৫ বছর বয়সী খালেদা জিয়া এখন গুলশানে তার ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় রয়েছেন। তিনি নিজ বাসভবনে থাকলেও রাজনীতি থেকে দূরে রয়েছেন। লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের নির্দেশনায় এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে দলের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করছে। 

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে। ওই দিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায়ও তার সাজার রায় হয়। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মোট মামলার সংখ্যা ৩৭টি।