সমাবেশে ফখরুল

লেখক মুশতাকের হত্যাকান্ড হয়েছে রাষ্ট্রীয়ভাবে

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, ‘কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের হত্যাকা- রাষ্ট্রীয়ভাবে হয়েছে। আমরা এই হত্যাকান্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি।’ মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর বিষয়ে সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ অভিযোগ করেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি, লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যু ও নোয়াখালীতে সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যার প্রতিবাদে যুবদল এই বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। এ উপলক্ষে সকাল থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিশের সাঁজোয়া যান, রায়ট কার, জলকামানের গাড়িও ছিল প্রেস ক্লাবের পূর্ব দিকের সড়কে। সকাল ১০টায় সমাবেশ শুরু হয়ে ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে শেষ হলে দ্রুত নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থল ত্যাগ করেন। বিএনপির আমান উল্লাহ আমান ও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি নেতাকর্মীদের চলে যেতে বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘লেখক মুশতাক আহমেদকে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে গ্রেপ্তার করে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটক রাখা হয়। ছয়বার তার জামিন আবেদন বাতিল করা হয়। এভাবে কারাগারে রেখে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা প্রথমেই বলেছিলাম, এই হত্যাকান্ড রাষ্ট্রীয়ভাবে হয়েছে। আমরা এই হত্যাকা-ের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছি।’

তিনি বলেন, ‘শুধু মুশতাক আহমেদ নয়, এই ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে প্রায় ৭০০ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই আইনের সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয়েছে আমাদের সাংবাদিকরা।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ক্ষমতাসীন সরকার সম্পূর্ণ একটা অবৈধ সরকার, অনির্বাচিত সরকার। তাদের জোর করেই ক্ষমতায় টিকে থাকতে হচ্ছে এবং টিকে থাকার জন্য এ ধরনের সম্পূর্ণ গণবিরোধী আইন যারা তৈরি করেছে সেই আইনের মাধ্যমে, এই ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মাধ্যমে তারা জনগণের যে কথা বলার অধিকার, বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে।’

ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে গ্রেপ্তারকৃত সব রাজনৈতিক নেতাকর্মীর অবিলম্বে মুক্তি দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচন দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে তাদের পতন হবে। তাই আমাদের দাঁড়াতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে হবে। আসুন, এই লক্ষ্যে আমরা সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হই।’

যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরবের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসানের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, প্রচার সম্পাদক শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, জ্যেষ্ঠ  সহসভাপতি মোরতাজুল করীম বাদরু, সহসভাপতি আবদুল খালেক হাওলাদার, মোনেম মুন্না, কেন্দ্রীয় নেতা এস এম জাহাঙ্গীর, রফিকুল আলম মজনু, নুরুল ইসলাম নয়ন, গোলাম মাওলা শাহিন প্রমুখ।