সরকার ২০১৮ সালে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে। এ থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে অবস্থানকারী রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখ ৯৭ হাজার ৭৭১ জন। এসব রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনের চেষ্টার পাশাপাশি এক লাখ রোহিঙ্গাকে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ লক্ষ্যে নোয়াখালী জেলার হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ভাসানচরে আশ্রয়ণ-৩ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০১৭ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। বাংলাদেশ নৌবাহিনী এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। বর্তমানে ভাসানচরে চার ধাপে ১০ হাজার ১৬ জন রোহিঙ্গা স্থানান্তরিত হয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্প, এর সুবিধাসমূহ ও নিরাপত্তা নিয়ে দেশ রূপান্তরের বিশেষ প্রতিনিধি উম্মুল ওয়ারা সুইটির সঙ্গে কথা বলেছেন প্রকল্পটির পরিচালক (পিডি) ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কর্মকর্তা কমোডর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনি এই প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন
দেশ রূপান্তর: ভাসানচরের রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরকে কীভাবে সাজানো হয়েছে?
আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী: ভাসানচরে গুচ্ছগ্রামের আদলে ১২০টি ক্লাস্টার গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি ক্লাস্টারে রয়েছে বারোটি করে বাড়ি। প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে ষোলটি করে ঘর। ঘরে চারজন করে থাকবেন। ভাসানচর জুড়ে যে আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে তাতে এখন ১ লাখের মতো রোহিঙ্গা বসবাস শুরু করতে পারবেন। এর বাইরে যে পরিমাণে জায়গা এখন রয়েছে আরও দুই লাখের মতো রোহিঙ্গার জন্য ব্যবস্থা করা যাবে। এছাড়া ১২০টি সেন্টার রয়েছে। এসব শেল্টারে আরও ৯০ হাজার লোককে রাখা যাবে।
দেশ রূপান্তর: এই বিশাল কর্মযজ্ঞ কীভাবে সম্পাদন করা হয়েছে?
আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী: আমরা প্রকল্পটি শুরু করেছি ২০১৭ সাল থেকে। দুই বছরে প্রকল্পের ৯৯ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঠিক নির্দেশনা এবং নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আমরা এই প্রকল্পটি দ্রুত সম্পন্ন করতে পেরেছি। এই প্রকল্পে যে ক্লাস্টারগুলো এবং সেন্টার হাউজগুলো রয়েছে সেটা একজন দুজন ঠিকাদারের কাজ নয়। ৩৯ জন ঠিকাদারকে একই সঙ্গে এই কাজটি করার জন্য দেওয়া হয়েছে। আর এ কারণেই কাজটি করতে অনেক সুবিধা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় কার্যক্রম শুরু করেছে। মধ্যে গত সেপ্টেম্বর মাসে এখানে একটি পরিদর্শক দল এসেছিল। রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে মাঝি ইমাম এফডিএমএমএস-এর একটি টিম এসে ভিজিট করে গেছে। ইউএন-এর পরিদর্শনের জন্যও আমরা একটি পরিকল্পনা নিয়েছি। এ নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
দেশ রূপান্তর: কক্সবাজারের চেয়ে ভাসানচরে কী কী বাড়তি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে?
আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী: এখানে প্রতিটি ঘরই অর্গানাইজড। তাদের বাথরুম গোসল এবং সুস্থ জীবনযাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এজন্য আলাদা বাথরুম করা হয়েছে। কক্সবাজার থেকে এখানে ওরা ভালো আছেন। কক্সবাজারে ৮০ জন মিলে একটি টয়লেট ব্যবহার করেন। এখানে ২৯ থেকে ২১ জন একটি টয়লেট ব্যবহার করবেন। রাস্তা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক উন্নত। ইকো ফ্রেন্ডলি একটি এনভায়রনমেন্টে এ প্রকল্পটি আমরা শেষ করতে পেরেছি। রুমের সাইজ ৩ দশমিক ৯ বর্গ মিটার। যা ইউএন স্ট্যান্ডার্ড থেকে বড়। ঘরের সঙ্গে হাউজ সোলার-এর মাধ্যমে বিদ্যুতায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এদের জন্য আলাদা বাজার রয়েছে। রোহিঙ্গাদের নানা ধরনের অভ্যাস পরিবর্তনের জন্য এবং বাচ্চাদের স্কুলিংয়ের জন্য ভাসানচর একটি ভালো জায়গা হবে।
দেশ রূপান্তর: রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে কেন সরানোর প্রয়োজন পড়ল?
আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী: কক্সবাজারে ৬ হাজার ৭শ একর জায়গার মধ্যে ৭-৮ লাখ লোক অবস্থান করছেন। সেখানে তারা যেভাবে বসবাস করছেন যেকোনো সময় একটি দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কক্সবাজারে ঝুঁকিপূর্ণ জীবন থেকে তাদের একটু ভালো রাখার জন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই উদ্যোগ নিয়েছেন। এখানে আমরা যে সবাইকে কক্সবাজার থেকে নিয়ে আসছি তা কিন্তু নয়। আপনি দেখবেন ওদের যে জন্মহার তা অনেক বেশি। বছরে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। বছরে ৩০ হাজার বাচ্চা জন্মগ্রহণ করছে। এই বাড়তি জনগোষ্ঠী কোথায় যাবে? এটা স্থায়ী না। অস্থায়ীভাবে তাদের আনা হচ্ছে। তারা (রোহিঙ্গারা) তাদের দেশে ফিরে গেলে এই স্থাপনা বাংলাদেশের দুস্থ মানুষদের কাজে লাগবে। যেভাবে অন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে সেভাবেই ব্যবহার করা হবে। কক্সবাজারে প্রতি ৮টি বাসিন্দার জন্য একটি রান্নাঘর। সেখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে ভাসানচরে একটি পরিবারের জন্য একটি চুলা বরাদ্দ। এসব চুলা পরিবেশবান্ধব। প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহের জন্য রান্নাঘরের ভেতরেই রয়েছে গভীর নলকূপ। এখান থেকেই তারা বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারবেন।
দেশ রূপান্তর: একটি দ্বীপের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে?
আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী: এক লাখের মতো রোহিঙ্গা বসবাস করবেন তাদের জন্য যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুষ্ঠু ব্যবস্থা রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য চারটি ওয়্যারহাউজ রয়েছে। সেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য তিন মাসের খাদ্য মজুদ করা যাবে। এছাড়াও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এইসব ওয়্যারহাউজে মজুদ করা যাবে। কাজেই যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে তিন মাস পর্যন্ত খাদ্যসহ পণ্য সরবরাহ তারা পাবেন।
দেশ রূপান্তর: কিন্তু জরুরি চিকিৎসাসেবা। সেটা নিশ্চিত করা হবে কীভাবে?
আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী: সেই বিষয়টিও আমরা মাথায় রেখেছি। তাদের চিকিৎসার জন্য ভাসানচরে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতি ২৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। এখানে যারা চিকিৎসা দেবেন সেই চিকিৎসক এবং নার্সদের থাকার ব্যবস্থা আছে। চারতলা বিশিষ্ট এই ক্লিনিকে নিচের দুই ফ্লোরে চিকিৎসা চলবে এবং ওপরের দুই ফ্লোরে নার্স এবং ডাক্তার থাকবেন।
দেশ রূপান্তর: বাংলাদেশ প্রতি বছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়। জ্বলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় এখানে নিয়মিত ঘটনা। অভিযোগ রয়েছে ভাসানচর জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।
আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী: তাদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার প্রথম বিষয় হলো জলোচ্ছ্বাস এবং জোয়ারের পানির ভয়। ভাসানচর প্রকল্পটি নিয়ে এই ধরনের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। বিষয়টি মাথায় রেখে প্রকল্পের ডিজাইন সাজানো হয়েছে। ১৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ দিয়ে প্রকল্প এলাকা ঘিরে দেওয়া হয়েছে। বেড়িবাঁধের উচ্চতা ৬ ফুট। জোয়ারের পানি এবং জলোচ্ছ্বাস যেন কোনোভাবেই রোহিঙ্গাদের ঘরে না ঢুকতে পারে বাড়িগুলো সেভাবেই নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ১৭৬ বছরের স্টর্ম ওয়েদার স্টাডি করে ব্রিটিশ একটি কোম্পানি এটি করেছে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে দ্বীপটির উচ্চতম স্থানে এখনকার স্থাপনাগুলো তৈরি করা হয়েছে। আমরা যদি এক্ষেত্রে সুবর্ণচরের সঙ্গে তুলনা করি তবে দেখব, এটা কিন্তু ১৯৭৪-৭৫ সালে আইল্যান্ড ছিল। এখন কিন্তু এটা মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে। আমাদের যে সুরক্ষা বাঁধ এবং প্রটেকশন রয়েছে তাতে করে পুরো দ্বীপটি দুর্যোগ থেকে সুরক্ষা পাবে। এই দ্বীপে গত দুই বছর একইসঙ্গে ১৪ থেকে ১৫ হাজার শ্রমিক কাজ করেছে। মধ্যে ফণী, আম্পান এবং বুলবুলি ঝড় এসেছিল। ঝড়ের সময়ে দ্বীপে মাত্র চার থেকে পাঁচ ফুট পানি উঠেছে। কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
দেশ রূপান্তর: এই এলাকা ঘূর্ণিঝড়প্রবণ। বড় ধরনের সাইক্লোন মোকাবিলা কীভাবে করা হবে। মূল ভূখণ্ড তো এখান থেকে অনেক দূরে?
আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী: ভাসানচরে ১২০টি সাইক্লোন শেল্টার রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কথা মাথায় রেখে এসব সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হয়েছে। এটা ২৬৫ কিলোমিটার বেগে আসা ঘূর্ণিঝড়কে মোকাবিলা করতে পারবে। সাইক্লোন শেল্টারগুলোকে স্কুলে রূপান্তরিত করা হয়েছে। সেখানে রোহিঙ্গাদের বাচ্চা-কাচ্চারা পড়াশোনা করছে। সন্দ্বীপ এবং হাতিয়ার প্রেক্ষাপটে আমরা যদি চিন্তা করি এখানে এক হাজার লোকের জন্য একটা করে শেল্টার রয়েছে। সন্দীপ এবং হাতিয়ায় ৪ হাজার লোকের জন্য একটা করে শেল্টার রয়েছে। সুরক্ষা বাঁধ আছে। প্রতিটি শেল্টার গ্রাউন্ড থেকে ৪০ ফুট উঁচুতে। ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটার গতিবেগ মোকাবিলা করার জন্য এ বিল্ডিংগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। আর যে কোনো দুর্যোগের সময় যদি কেউ অসুস্থ হয় সেটি মোকাবিলার জন্য ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে দুটি আন্তর্জাতিক মানের হেলিপ্যাড রয়েছে, জাহাজ রয়েছে। দুর্যোগ মুহূর্তে এগুলো ব্যবহার করা যাবে।
দেশ রূপান্তর: ভাসানচরে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার লোকজন পরিদর্শনে যাবেন। তারা কোথায় থাকবেন?
আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী: এখানে যারা পরিদর্শনে আসবেন তারা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অতিথি। এসব ব্যক্তির জন্য চমৎকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আইকন টাওয়ারের পাশে একটি অতিথি ভবন স্থাপন করা রয়েছে। ঢাকায় অবস্থিত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মা এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনগুলোর মতোই এই ভবনে সব ধরনের সু-ব্যবস্থা রয়েছে।
দেশ রূপান্তর: এই যে এখানে ১ লাখ মানুষ বসবাস করবে। তাদের মাধ্যমে বিশাল পরিমাণে বর্জ্য সৃষ্টি হবে। মানববর্জ্যসহ এসব বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী: এগুলো একদমই পরিবেশসম্মতভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। পচনশীল আবর্জনা ফেলার একটা জায়গা রাখা হয়েছে। মানববর্জ্য কাজে লাগানোর জন্য মানববর্জ্যভিত্তিক বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট করা হয়েছে। আপনি যদি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সঙ্গে ভাসানচরের গুচ্ছগ্রামের তুলনা করেন তাহলে আমি বলব, ভাসানচর বসবাসের জন্য অনেক বেশি যোগ্য। এখানে পানির ব্যবস্থা পর্যাপ্ত। প্রতিটি ক্লাস্টারে পাম্প দিয়ে পানি তোলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রয়েছে রিজার্ভ ট্যাঙ্কের ব্যবস্থা। অন্যদিকে কক্সবাজারে প্রতিনিয়ত পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। এছাড়া সোলারচালিত পাম্পের পাশাপাশি প্রতিটি ক্লাস্টারে পুকুর খনন করা হয়েছে এবং প্রতি পুকুরের গভীরতা ১০ ফুট। যেখানে মাছ চাষের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০১৮ সালে এখানে ইউএন-এর জয়েন ওয়ার্কিং টিম এসেছিল, পরে ইউএন-এর অ্যাসেসমেন্ট টিম যদি আসে তারাই ভাসানচরকে বসবাসের জন্য খুবই উপযুক্ত বলে ঘোষণা করবে। আমরা তাদের আসার ব্যবস্থা করছি। তারা এলেই বুঝতে পারবেন।
দেশ রূপান্তর: অনেকে বলছেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বেশি। এদের কীভাবে সামাল দেওয়া হবে। এখানে তো নিরাপত্তারও একটি বিষয় রয়েছে?
আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী: ভাসানচরের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘ভাসানচর থানা’ নামে একটি থানা প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। পুলিশের একটি বড় দল এখানে দায়িত্ব পালন করছে। আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রম পরিচালনায় দুটি ভবন রয়েছে।
দেশ রূপান্তর: রোহিঙ্গাদের জন্য সরকারি ও বিদেশি অনুদান থাকবে। কিন্তু তাদের যদি বাড়তি কোনো কিছু কেনাকাটা করতে ইচ্ছে করে বা কেউ স্বাবলম্বী হতে চান সেজন্য কি কোনো ব্যবস্থা আপনারা রেখেছেন?
আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী: অবশ্যই। আমরা তাদের ইচ্ছের বিষয়টিও মাথায় রেখেছি। রোহিঙ্গাদের কেনাকাটার জন্য রয়েছে দুটি বাজার। দেশের অন্যান্য বাজারের থেকে অনেকটা আলাদা এই বাজার। পণ্য রাখার জন্য গোডাউনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীরা এসব বাজার থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারবেন। রোহিঙ্গারা এখানে কাজ করতে পারবেন। পশুপালন, হস্তশিল্প, সেলাই এবং মাছ চাষসহ বিভিন্ন কাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এসব কার্যক্রম ক্যাম্প কর্র্তৃপক্ষ এবং যারা ব্যবসা করতে আসবেন তারা পরিচালনা করবেন। তবে রোহিঙ্গারা এখানে দোকান চালাতে পারবেন না।
একটা বিষয় আপনার মাধ্যমে জানিয়ে রাখি। এখানে রয়েছে একটি লাইট হাউজ বা বাতিঘর। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে সেটিকে সম্মান দেখাতে এই লাইট হাউজের নামকরণ করা হয়েছে ‘লাইট অফ হোপ’ বা আশার আলো। এ লাইট হাউজটি সারা মানবজাতিকে এই বার্তাটি দেবে যে, বাংলাদেশ কীভাবে আর্ত-মানবতার সেবায় এগিয়ে আসে। এটা একটি উন্নত প্রতীকী উপস্থাপনা। বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য বঙ্গোপসাগর দিয়ে যত বাণিজ্যিক জাহাজ আসবে তাদের পথ দেখাবে এই লাইট হাউজ।