বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, ‘সরকারের পেছনে ভয়ংকর একটি শক্তি অবস্থান নিয়ে ভিন্নমতের ওপর নির্মম নির্যাতন চালাচ্ছে।’ গতকাল শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ ছাত্র ফোরাম ও উত্তর ছাত্র ফোরামের যৌথ উদ্যোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৪তম কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন।
২০০৭ সালে ৭ মার্চ সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করে যৌথ বাহিনী। তখন তার বিরুদ্ধে কয়েকটি দুর্নীতির মামলা দায়ের করা হয়। ২০০৮ সালে জামিনে মুক্তি পেয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্য যান সপরিবারে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকের পত্রিকা খুললে দেখবেন, কার্টুনিস্ট কিশোর জেল থেকে বেরিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছে, সেই বক্তব্যে বোঝা যায়, ভয়ংকর একটা শক্তি পেছনে থেকে, এই সরকারের আড়ালে থেকে, সরকার স্ক্রিন তৈরি করেছে, সেই স্ক্রিনে থেকে যারাই এই সরকারের বিরোধিতা করছে, যারাই রাষ্ট্রপ্রধানের বিরোধিতা করছে, যারাই সরকারপ্রধানের বিরোধিতা করছে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য অমানবিক নির্যাতন করছে।’
তিনি বলেন, ‘মুশতাক আহমেদকে শুধুমাত্র লেখার অপরাধে আর কিশোরকে শুধুমাত্র কার্টুন আঁকার অপরাধে নির্মম অত্যাচার করে ছয় মাস আটক করে রাখা হয়। আজ পত্রিকাতে আছে যে, কত মানুষকে, সাত বছরের শিশু, কত বয়োজ্যেষ্ঠদের তুলে নিয়ে গেছে, জেলে নিয়ে গেছে শুধুমাত্র সরকারের সমালোচনা করার অপরাধে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ স্বাধীনতার চেতনা সম্পূর্ণ ভূলুণ্ঠিত, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রকে পুরোপুরিভাবে দলীয়করণ করেছে, এই রাষ্ট্রকে একটা দলীয়করণের রাষ্ট্রে, একটা অকার্যকর রাষ্ট্রে, একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। এরা শুধুমাত্র নিজেদের ক্ষমতা, দাম্ভিকতা, আত্মম্ভরিতা আর দুর্নীতির বৃত্ত তৈরি করার জন্য তারা গোটা জাতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এজন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ করিনি। এই অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করে দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে হবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘১৯৭১ সালে অস্ত্র হাতে নিয়ে আমাদের তরুণরা, দামাল ছেলেরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে বিতাড়িত করেছে। সেই কথা মনে রেখে আমাদের উঠে দাঁড়াতে হবে। আজকের তরুণ-যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট দানবকে পরাজিত করতে হবে।
বাংলাদেশ ছাত্র ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর হেলালের সভাপতিত্বে ও বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন প্রমুখ।