ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমসহ তিন শিক্ষকের গবেষণাপ্রবন্ধে প্ল্যাজিয়ারিজম বা কুম্ভীলকবৃত্তি বা চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় দেশ রূপান্তর সম্পাদক অমিত হাবিব, প্রকাশক মাহির আলী খাঁন রাতুল ও ঢাবি প্রতিনিধি তানভীর হাসানকে উকিল নোটিস পাঠানোর নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, বিজেএসসি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব, বাংলাদেশ ডাটা জার্নালিস্ট নেটওয়ার্কসহ কয়েকটি সংগঠন। গতকাল শনিবার আলাদা বিবৃতিতে উকিল নোটিস পাঠানোর নিন্দা জানিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনগুলোর নেতারা।
গত ৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম ও অধ্যাপক ড. কাউছার আহমেদের পক্ষে দেশ রূপান্তর সম্পাদক অমিত হাবিব, প্রকাশক মাহির আলী খাঁন রাতুল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি তানভীর হাসানকে একটি উকিল নোটিস পাঠানো হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক আল মামুন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘অধ্যাপক সাদেকা হালিম আইনি নোটিস পাঠিয়ে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। আমরা তাদের এমন ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পাঠানো উকিল নোটিসটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি রক্ষার্থে তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগটি খতিয়ে দেখতে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ডিন পদ থেকে অবিলম্বে অপসারণ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।’
বিজেএসসির সভাপতি গাজী হিরক ও সাধারণ সম্পাদক জাবিদ হাসান ফাহিম এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা সাদেকা হালিমের এমন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পাঠানো উকিল নোটিসটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি জানাচ্ছি। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগটি খতিয়ে দেখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’
বাংলাদেশ ডাটা জার্নালিস্ট নেটওয়ার্কের সভাপতি সিয়াম সারোয়ার জামিল ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ হোসেন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সংবাদপত্র রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। অধ্যাপক সাদেকা হালিম সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পাঠানো উকিল নোটিসটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি জানাচ্ছি।’ এছাড়া অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগটি খতিয়ে দেখতে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে ডিন পদ থেকে অবিলম্বে অপসারণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।