৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘আজকে ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু এই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর ২১ বছর এ ভাষণ বাজেনি। রাষ্ট্রীয় সব অনুষ্ঠানে এ ভাষণ নিষিদ্ধ ছিল, এমনকি বঙ্গবন্ধুর নামটিও নিষিদ্ধ ছিল।’ গতকাল রবিবার দুপুরে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাব আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ : বাঙালির মুক্তির সড়ক’ সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের আবেদন ৫০ বছর পরও মানুষের মনের মণিকোঠায় অমøান, উদ্দীপনাময়। ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টায় কোনো লাভ হয়নি। বঙ্গবন্ধু তার স্বমহিমায় নতুন প্রজন্মের মনের গভীরে প্রোথিত হয়েছেন। বরং ইতিহাস বিকৃতিকারীরাই মুছে গেছে। পৃথিবীর ইতিহাসে বহু কালজয়ী ভাষণ আছে। মার্টিন লুথার কিং, নেলসন ম্যান্ডেলা, আব্রাহাম লিংকন, জন এফ কেনেডি, জর্জ ওয়াশিংটন, আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট, মহাত্মা গান্ধী, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু এবং তাদের মতো অনেকের কিছু ভাষণ বিশ্ব ইতিহাসে অন্যতম সেরা হিসেবে স্বীকৃত। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ এসব ভাষণ থেকে অনন্য। কারণ এটি লিখিত ভাষণ ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ১৯ মিনিটে ১০১টি বাক্যে যে ভাষণ দিয়েছেন তার ভাষা ছিল সাধারণ মানুষের কথ্য ভাষা, বই বা সভা সেমিনারের ভাষা নয়। বঙ্গবন্ধু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য শরীরের যে অঙ্গভঙ্গি এবং যে ভাষা, যে বাক্য, যে শব্দ চয়নের প্রয়োজন, সেগুলো ছিল বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণের অনন্য মাধ্যম। তিনি তার ভাষণে সবাইকে সবচেয়ে আপন ‘তুমি’ সম্বোধন করেছেন, অর্থাৎ জাতির সঙ্গে তার সেই সম্পর্কটি তখন দাঁড়িয়ে গেছে। এখানেই ৭ মার্চের ভাষণের মাধুর্য, অন্যতম সবচেয়ে বড় দিক।’
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে আলোচনায় আরও অংশ নেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান প্রমুখ।