বরিশালে ‘ছাত্রলীগের নামে’ শপিংমলে হামলা-লুটপাট

বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতির নামে নগরীর সদর রোডে ‘টপ টেন মার্ট সুপার শপে হামলা-ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই হামলায় দোকানের অন্তত ১৪জন কর্মচারী আহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক ৫জন হামলাকারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় এবং বিষয়টি ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন। হামলা-ভাঙচুর এবং লুটের অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি।

রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নগরীর প্রাণ কেন্দ্র সদর রোডের বিবির পুকুরের উত্তর পাড়ে ঈমান আলী টাওয়ারে অভিজাত ‘টপ টেন’ শো রুমে ওই হামলা-ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

শোরুমের বিক্রয় কর্মীরা জানান, সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে একসঙ্গে অর্ধ শতাধিক তরুণ ও যুবক তাদের শো রুমে প্রবেশ করেন। তারা বিভিন্ন পোশাক, জুতা, ঘড়িসহ বিভিন্ন পণ্য অস্বাভাবিকভাবে একত্রিত করে। কিন্তু কেউ কাউন্টারে মূল্য পরিশোধের জন্য না যাওয়ায় কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়।

কর্তৃপক্ষ এ সময় ওই তরুণ-যুবকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে তারা মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি মূল্য পরিশোধ করবে বলে অতর্কিতে টপ টেন কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। তারা টপ টেন কর্মীদের মারধর এবং গ্লাস ভাঙচুর করে বিভিন্ন পণ্য লুট করে পালিয়ে যায়। তবে এদের মধ্যে ৫জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে টপ টেন কর্মচারীরা।

টপ টেন বরিশাল শাখা ব্যবস্থাপক মো. মিরাজুল হক জানান, আহতদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। লুটপাটের পর তারা তাৎক্ষণিক কোনো ক্ষতি নিরূপণ করতে পারেননি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ষড়যন্ত্র করে আমার নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। হামলা-ভাঙচুর এবং লুটের ঘটনায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন তিনি।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম জানান, সদর রোডের একটি শো রুমে হামলা-ভাঙচুর লুটের খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সজিব, রোহান, শুভ, রাকিব ও শাহাদাত নামে ৫জনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত করে মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন ওসি।

উল্লেখ্য, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোডের ঈমান আলী টাওয়ারে অভিজাত শপিং মল ‘টপ টেন’ চালু হয়।