চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে হাজতি নিখোঁজের ঘটনায় কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষের গঠিত কমিটি তদন্ত করছে। তদন্ত কমিটি ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে কারাগারের অভ্যন্তরে, বিভিন্ন সেফটি ট্যাংক-নালা, ভবনের ছাদে তল্লাশি শুরু করেছে।
সোমবার সকালে প্রথমে কারা কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত দল ডিআইজি প্রিজনের কার্যালয়ে যান। সেখানে কারাগারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তারা। পরে তারা কারাগার পরিদর্শনে যান।
কমিটির প্রধান খুলনা বিভাগের কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি-প্রিজন) ছগির মিয়াসহ তিন সদস্য চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপমহাপরিদর্শক এ কে এম ফজলুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেন। কমিটির অন্য দুজন হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের সুপার ইকবাল হোসেন ও বান্দরবান জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলার ফোরকান ওয়াহিদ। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খুলনা বিভাগের ডিআইজি-প্রিজন ছগির মিয়া বলেন, আমরা নিশ্চিত নই যে ওই হাজতি পালিয়ে গেছে কিনা; এ জন্য ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে তল্লাশি করিয়েছি। কারাগারের সেপটিক ট্যাংক, বড় বড় নালা নর্দমা, ভবনের ছাদ ও কার্নিশের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছি। যেহেতু অনেক বড় কারাগার, আমরা বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখছি।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম কারা কর্তৃপক্ষ ‘ম্যানুয়ালি’ বলেছে, ওই হাজতি ‘মিসিং’ আছে। এই মিসিং দুইভাবে হতে পারে ‘জীবিত’ কিংবা ‘মৃত’ অবস্থায়। হয়তো দেখা গেল সে পালাতে গিয়ে কারা অভ্যন্তরে কোথাও আটকে আছে। সেটা দেখার মতো লজিস্টিক সাপোর্ট কারাগারে নেই। সে জন্যই মূলত ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া কারাগারের সব সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেও দেখছে তদন্ত কমিটি।
উল্লেখ্য, গত রবিবার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে হাজতি নিখোঁজের ঘটনায় জেলার মো. রফিকুল ইসলাম ও ডেপুটি জেলার মোহাম্মদ আবু সাদতকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া মো. নাজিম উদ্দিন ও মো. ইউনুস নামে দুই কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করার পাশাপাশি কামাল হায়দার নামে এক কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। এর আগে গত শনিবার সকালে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর রাতেই কারা কর্তৃপক্ষ মামলা করে কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান।
হাজতি ফরহাদ কারাগারের কর্ণফুলী ভবনের পঞ্চম তলার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ছিলেন এবং শনিবার ভোর সোয়া ৫টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে তিনি ওয়ার্ড থেকে বের হয়ে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। নিখোঁজ হাজতি মো. ফরহাদ হোসেন রুবেল নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার মীরেরকান্দি গ্রামের শুক্কুর আলী ভান্ডারীর ছেলে। সে নগরীর সদরঘাট থানার হত্যা মামলার আসামি। এ ঘটনায় ৮ ফেব্রুয়ারি ডবলমুরিং থানার মিস্ত্রিপাড়া থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন।