বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচার প্রতিরোধে প্রণীত নীতিমালা বাস্তবায়নে আরও ৭ মাস সময় পেল ব্যাংকগুলো।
গত রবিবার এই নীতিমালা বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সময় দিয়ে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় তৃতীয়বারের মতো এই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করে বিএফআইইউ।
ওভার ইনভয়েসিং ও আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানির আড়ালে অর্থপাচারের অভিযোগ অনেক পুরনো। অর্থপাচারের ৮০ শতাংশই বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে ঘটে বলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) গবেষণাও রয়েছে।
এ ধরনের অর্থপাচার প্রতিরোধে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে একটি নীতিমালা জারি করে বিএফআইইউ। ওই নীতিমালার আলোকে ব্যাংকগুলোকে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি নিরসনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্র, ব্যাপ্তি, গ্রাহক সংখ্যা ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নিজস্ব ম্যানুয়েল তৈরি করতে বলা হয়। এজন্য প্রথম দফায় সময় দেওয়া হয় ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত। করোনা মহামারীর কারণে ওই সময়সীমা বাড়িয়ে দ্বিতীয় দফায় ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়।
সর্বশেষ এই সময়সীমাও বাড়িয়ে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করে বিএফআইইউ। সময় বাড়ানোর ওই সার্কুলারে স্বাক্ষর করেন বিএফআইইউ’র মহাব্যবস্থাপক মো. জাকির হোসেন চৌধুরী। ওইদিনই তাকে নির্বাহী পরিচালক পদে পদোন্নতি দিয়ে মানবসম্পদ বিভাগে সংযুক্ত করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে বৈদেশিক বাণিজ্যে বাংলাদেশ এখন যেসব শুল্ক ছাড় পাচ্ছে তা অনেকাংশে কমে আসবে। কোথাও কোথাও নতুন করে শুল্ক আরোপ হবে। এক্ষেত্রে বৈদেশিক বাণিজ্যে শুল্কফাঁকিসহ নানা ধরনের অনিয়মের আশ্রয় নেওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। এজন্য এখনই বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচার প্রতিরোধের নীতিমালা বাস্তবায়নে জোর দেওয়া দরকার বলে মনে করেন তারা।