নামের মিলে কারাবাস

বিচারিক তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

একজনের নাম মানিক মিয়া। অন্যজন মানিক হাওলাদার। দুজনের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখীপুর ইউনিয়নে। এর মধ্যে একজন ব্যাপারীকান্দি গ্রামের। অন্যজন আলম চান ব্যাপারীকান্দি গ্রামের। গত বছরের ২৮ নভেম্বর মাদকের একটি মামলায় মানিক হাওলাদারকে (৪২) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, মামলায় দ-প্রাপ্ত আসামি মানিক মিয়ার বদলে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাকে। বিষয়টি গড়ায় উচ্চ আদালতে। একজনের বদলে অন্যজনকে কারাগারে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করতে গতকাল সোমবার বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। শরীয়তপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়। এ নিয়ে পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য আগামী ১২ এপ্রিল ধার্য করেছে হাইকোর্ট। গত ২ মার্চ মানিক হাওলাদারের স্ত্রী সালমা বেগমের পক্ষে হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করা হয়। এতে মানিক হাওলাদারকে আদালতে উপস্থিত করা, তাকে মুক্তির নির্দেশনাসহ ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয় রিট আবেদনে। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী পার্থ সারথি রায়। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

আইনজীবী পার্থ সারথি রায় দেশ রূপান্তরকে জানান, এ ঘটনায় বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আর তদন্তকাজে জেল সুপার ও সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারককে অবশ্যই পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা করতে বলা  হয়েছে। এ ছাড়া মানিক হাওলাদারকে অবৈধভাবে  আটক রাখা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।  

নথিপত্রের বরাতে আইনজীবীরা জানান, ২০০৯ সালের ২ জুন র‌্যাব অভিযান চালিয়ে সিরাজগঞ্জ থেকে ফেনসিডিলসহ চার ব্যক্তিকে আটক করে। পরে ওইদিন সলঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চারজনকে আসামি করে মামলা হয়। আসামিদের একজন শরীয়তপুরের ব্যাপারীকান্দি গ্রামের মানিক মিয়া।  গ্রেপ্তারের কিছুদিন পর জামিনে মুক্তি পেয়ে পলাতক হন তিনি। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০১৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি এ মামলার রায়ে চার আসামিকে চার বছর করে কারাদ- দেয় সংশ্লিষ্ট আদালত। মানিক মিয়ার নামে আদালতের একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সখীপুর থানায় আসে ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর। সখীপুর থানার পুলিশ গত বছর ২৮ নভেম্বর ওই থানার আলম চান ব্যাপারীকান্দি গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে মানিক হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন তিনি। তার স্বজনরা জানান, গ্রামের বাজারে মাছ বিক্রি করে সংসার চালান মানিক হাওলাদার। শুধু নামের মিল থাকায় বিনা দোষে তাকে জেলে যেতে হয়েছে।