কোম্পানীগঞ্জ আ.লীগ সভাপতিকে পেটালেন কাদের মির্জা!

নিজ দলের নেতা ও সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় থাকা নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে এবার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার বিকেলে বসুরহাট পৌরসভার রূপালী চত্বরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে ওই ঘটনার জের ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কাদের মির্জা ও খিজির হায়াত খান-মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও যেকোনো মুহূর্তে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বিকেল পাঁচটার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খান প্রায় অর্ধশত দলীয় নেতাকর্মীকে নিয়ে বসুরহাট রূপালী চত্বরে যান। সেখানে তিনি এর আগে কাদের মির্জার তালা ঝুলিয়ে দেওয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের পাশের আরেকটি কক্ষে গিয়ে বসেন। ২০-২৫ মিনিটের মাথায় পৌরসভা কার্যালয় থেকে আবদুল কাদের মির্জা এবং বড় রাজাপুর এলাকার গ্রামের বাড়ি থেকে তার ভাই শাহদাত হোসেন ও ছেলে মির্জা মাশরুর কাদেরের (তাসিক মির্জা) শতাধিক অনুসারী রূপালী চত্বরে গিয়ে খিজির হায়াতের ওপর হামলা চালায়। হামলার একপর্যায়ে খিজির হায়াতকে ওই কক্ষের ভেতর থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে আনা হয়। তারা এ সময় তাকে কিল, ঘুষি ও লাথি মারেন এবং পরনের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলেন। পরে খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানা থেকে পুলিশ এসে দু’পক্ষকে দুদিকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

হামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে খিজির হায়াত খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মির্জা (কাদের মির্জা) যেভাবে আমাকে মারধর করেছে যেন মনে হলো আমি পকেটমার। তিনি আমাকে লাথি, কিল, ঘুষি মেরে পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলেন। একপর্যায়ে তিনি আমাকে কলার ধরে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় নিয়ে যান এবং সেখান থেকে জোর করে রিকশায় তুলে দেন।’

তবে অভিযোগের বিষয় জানতে মেয়র আবদুল কাদের মির্জার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

খিজির হায়াত খানের ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহিদুল হক রনি গতকাল রাত ৯টায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মির্জা কাদেরের অনুসারীরা ও তাসিক মির্জার লোকজন খিজির হায়াত খানের ওপর হামলা করে বলে শুনেছি। তিনি বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’