পাবনায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অবৈধ অস্ত্রের কারখানা!

পাবনার বেড়া উপজেলার নাটিয়াবাড়ি এলাকায় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির ‘কারখানার’ সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার বিকেলে পাবনা-২ আসনের সাবেক এমপি ও বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আজিজুল হক আরজুর এক অনুসারীর ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র, অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম ও বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধসহ ২ জনকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, নিজেকে আজিজুল হক আরজুর ভাতিজা পরিচয় দেওয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির মালিক আবু বকর পলাতক রয়েছেন (কাগজে-কলমে মালিক আবু বকরের ছেলে মেহেদী হাসান)। আর আটক ২ জন আজিজুল হক আরজুর অনুসারী। পুলিশের ভাষ্য, স্থানীয় রাজনীতি ও পার্শ¦বর্তী নগরবাড়ী ঘাটে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে আরজুর অনুসারী সন্ত্রাসীদের সরবরাহের জন্য এসব অস্ত্র তৈরি হচ্ছিল।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, আমিনপুর থানায় নাটিয়াবাড়ী এলাকায় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের গ্রাউন্ড ফ্লোরে পেশাদার অস্ত্র ব্যবসায়ীরা অস্ত্র তৈরির কারখানা স্থাপন করেছে এমন গোপন সংবাদে সেখানে অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। এ সময় তাদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ২টি ওয়ান শুটার গান, একটি রিভলবার, অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম ও বিপুল পরিমাণ অনুমোদনহীন ভেজাল ওষুধ উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, আটক দুজন হচ্ছেন- বেড়া উপজেলার রাকসা ভারেঙ্গা এলাকার মৃত মোকসেদ আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ আল মনসুর ওরফে মিঠু (৪৩) ও আমিনপুর থানার রাজনারায়ণপুর গ্রামের হানিফ কাজীর ছেলে আব্দুল্লাহ আল সিয়াম (১৯)।

নাটিয়াবাড়ি এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী শাহ আলম ব্যাপারী বলেন, ‘সাবেক এমপি আরজু খন্দকার দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জামাত নেতা ইমান আলী মোল্লাকে সঙ্গে নিয়ে নগরবাড়ী ঘাটের দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগ নেতারাও বিব্রত। তবে আরজু সাহেব তার ভাতিজা আবু বকর, তার ছেলে মেহেদী হাসান শোভন ও আব্দুল মজিদকে দিয়ে পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন। বিষয়টি এলাকায় ওপেন সিক্রেট হলেও ভয়ে কেউ বাধা দেওয়ার সাহস করেন না।

তবে আধিপত্য বিস্তার ও সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আজিজুল হক আরজু। তিনি বলেন, এলাকায় আমার কোনো আত্মীয়-স্বজন নেই। আমার নিজেরই কোনো আশ্রয়স্থল নেই, সেখানে সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমি কখনোই চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না, রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পাবনার পুলিশ সুপার মুহিবুল ইসলাম খান জানান, আটকরা পেশাদার অস্ত্র ব্যবসায়ী। এরা বিভিন্ন সময় স্থানীয় সন্ত্রাসীদের চাহিদা অনুযায়ী অস্ত্র সরবরাহের পাশাপাশি নিজেরাও ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে কাজ করে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে আমিনপুর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মঙ্গলবার (আজ) তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।