কলকাতায় গিয়ে কালীপূজার অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে হত্যার হুমকির ঘটনায় উষ্মা প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। আদালতের মন্তব্য, একজন বিশ্বমানের ক্রিকেটার কালীপূজায় নাকি মসজিদে যাবেন, এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এজন্য তো তাকে হত্যার হুমকি দিতে পারে না। সাকিবকে হত্যার হুমকির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামির জামিন আবেদনের শুনানিকালে মঙ্গলবার (৯ মার্চ) বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করে।
একইসঙ্গে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে হত্যার হুমকির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি মহসীন তালুকদারকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েও রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। মামলার বিবাদীদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর রাতে ফেইসবুক লাইভে এসে চাপাতি দেখিয়ে সাকিবকে গলা কেটে হত্যার হুমকি দেন মহসীন তালুকদার নামের ওই যুবক। কলকাতায় গিয়ে কালীপূজার অনুষ্ঠান উদ্বোধন করার অভিযোগ তুলে এ ক্রিকেট তারকাকে হুমকি দেওয়া হয়। পরে গত ১৭ নভেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হুমকিদাতা মহসীন তালুকদার সিলেট সদর উপজেলার টুকেরবাজার ইউনিয়নের তালুকদারপাড়া গ্রামের আজাদ বক্সের ছেলে।
ফেইসবুক লাইভে সাকিব আল হাসানকে হত্যার হুমকি দেওয়া ছাড়াও তাকে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়ে গালিগালাজ করেন মহসীন। সেলফি তোলা নিয়ে ভক্তদের সঙ্গে সাকিব আল হাসানের খারাপ আচরণের প্রসঙ্গ তুলেও গালিগালাজ করেন তিনি। তবে ১৬ নভেম্বর সকালে ফের লাইভে এসে আগের লাইভের কথাগুলোর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন মহসীন তালুকদার।
গত ১২ নভেম্বর কলকাতায় গিয়ে একটি কালীপূজার অনুষ্ঠানে যান সাকিব আল হাসান। পূর্ব কলকাতার কাঁকুড়গাছিতে ‘আমরা সবাই ক্লাব’র ৫৯তম শ্যামাপূজার অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের পুর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, ‘আমরা সবাই ক্লাব’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক পরেশ পাল, দক্ষিণেশ্বর আদ্যাপীঠের আচার্য মুরাল ভাই, কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের কর্মকর্তা তৌফিক হাসান, বি এম জামাল হোসেন প্রমুখ।