দেশে বর্তমানে ৭৪৬টি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। করোনার পর নতুন আরও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দিতে যাচ্ছে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)। ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান বাড়াতে তৃতীয় দফায় লাইসেন্স দেওয়া হবে। সম্প্রতি এমআরএর পরিচালনা পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, এবার নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এ লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলো। এর আগে আরও দুই দফায় লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৭৪৬টি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স নিয়ে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ দফায় লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে দেশের চরাঞ্চল, সীমান্ত অঞ্চল ও তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারে ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে কাজ করতে আগ্রহীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ইতিমধ্যে এমআরএ থেকে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এমআরএর ওয়েবসাইটেও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। আগ্রহীদের আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এগুলো থেকে যাচাই-বাছাই করে যোগ্যদের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনার সাময়িক লাইসেন্স দেওয়া হবে।
আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দেশে প্রচলিত সোসাইটি অ্যাক্ট, ট্রাস্ট অ্যাক্ট, ভলান্টারি সোসাইটি ওয়েলফেয়ার অধ্যাদেশ বা কোম্পানি আইনের যেকোনো একটিতে নিবন্ধিত হতে হবে। এসব আইনের আওতায় সদস্যদের মধ্যে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে কমপক্ষে ৩০ লাখ টাকা ঋণ বিতরণের স্থিতি থাকতে হবে। এসব যোগ্যতার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হলে তিন বছরের জন্য সাময়িকভাবে ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হবে। অনুমোদন পাওয়ার তিন বছরের মধ্যে ন্যূনতম ঋণগ্রহীতার সংখ্যা ১ হাজার এবং ঋণের স্থিতি কমপক্ষে ১ কোটি টাকা হতে হবে। তাহলে চূড়ান্ত সনদ লাভের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন। এ শর্ত পালনে ব্যর্থ হলে সাময়িক লাইসেন্স বাতিল বলে গণ্য হবে।
২০০৬ সালে এমআরএ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর থেকে ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনা করতে তাদের লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। প্রথম দফায় ২০০৬-০৭ অর্থবছরে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে ৪ হাজার ২৪৩টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে লাইসেন্স প্রদান করে ৭৫৮টি প্রতিষ্ঠানকে। ২০১১-১২ অর্থবছরে দ্বিতীয় দফায় আবেদন করে ১ হাজার ২১২টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে লাইসেন্স প্রদান করা হয় ১২২টি প্রতিষ্ঠানকে। দুই দফায় মোট ৮৮০টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স প্রদান করা হয়। এর মধ্যে বিধিবিধান পরিপালনে ব্যর্থতার দায়ে ১৩৪টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়। বর্তমানে ৭৪৬টি প্রতিষ্ঠান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।