করোনার টিকা

ঝিনাইদহে হাহাকার বরগুনা থেকে ফেরত ৩১০০ ডোজ

বরগুনায় করোনার টিকা নিতে অনীহার কারণে তিনটি উপজেলা থেকে ৩ হাজার ১শ ডোজ টিকা ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মারিয়া হাসান। টিকাদান কার্যক্রমের এক মাস পার হলেও টিকাগ্রহণে মানুষের মধ্যে রয়ে গেছে অনীহা।

এদিকে টিকা না পেয়ে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অসংখ্য মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে টিকা নিতে জড়ো হয় সাধারণ মানুষ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, করোনার প্রথম ডোজের ১২ হাজার টিকা ফুরিয়ে যায় গত সোমবার। বাকি ৫৭০ ডোজ টিকা দিতে মাইকিং করা হলে জড়ো হয় হাজার হাজার মানুষ। ১ ঘণ্টার ভেতরে টিকা ফুরিয়ে যাওয়ায় তারা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বরগুনা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশের ন্যায় বরগুনাতেও টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। টিকা কার্যক্রম শুরুর আগে বরগুনার চাহিদার ভিত্তিতে ২৪ হাজার ডোজ করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে বরগুনা সদর উপজেলায় ৭ হাজার ৩০ ডোজ, আমতলীতে ৭ হাজার ২৮০, পাথরঘাটায় ৪ হাজার ৪১০, বামনায় ২ হাজার ১৪০ ও বেতাগীতে ৩ হাজার ১৪০ ডোজ টিকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। শুধু তালতলী উপজেলায় হাসপাতালের আন্তঃবিভাগীয় সেবা বন্ধ থাকায় সেই উপজেলায় কোনো টিকা বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বরগুনা জেলায় এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার ২৩৯ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ রয়েছে ১১ হাজার ৩৪ জন ও নারী রয়েছে ৬ হাজার ২০৫ জন।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, মানুষকে সচেতন করা সত্ত্বেও তারা করোনাভাইরাসের টিকা নিতে চাচ্ছে না। মেয়াদ উত্তীর্ণের কারণে ২০০ ভায়েল অর্থাৎ ২ হাজার মানুষের টিকার ডোজ ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে হাসপাতালে টিকার কোনো সংকট নেই।

বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মারিয়া হাসান বলেন, সেন্ট্রাল থেকে নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা টিকা ফেরত পাঠিয়েছি। আমাদের বলা হয়েছে, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে টিকা অব্যবহৃত থাকলে সেগুলো ফেরত পাঠানোর জন্য। কেননা দেশের অনেক জায়গা রয়েছে যেসব এলাকায় এখনো টিকার চাহিদা রয়েছে, তাই সমবণ্টনের জন্যই টিকা ফেরত পাঠিয়েছি। প্রথম ডোজ টিকা দেওয়ার জন্য যে পরিমাণ টিকার প্রয়োজন তা আমাদের কাছে মজুদ রয়েছে।

শৈলকুপায় টিকা না পেয়ে অসংখ্য মানুষের ক্ষোভ : করোনার টিকা না পেয়ে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অসংখ্য মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে করোনার টিকা নিতে জড়ো হয় সাধারাণ মানুষ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে টিকা নিতে আসা মানুষের সংখ্যা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, করোনার প্রথম ডোজের ১২ হাজার টিকা ফুরিয়ে যায় গত সোমবার। তবে ৫৭০ পিস টিকা থেকে যাওয়ায় ফের মাইকিং চালানো হয় উপজেলা জুড়ে। গতকাল বুধবার সেই বাকি টিকা নিতে জড়ো হয় হাজার হাজার মানুষ, এক ঘণ্টার ভেতরে টিকা ফুরিয়ে যাওয়ায় তারা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

শৈলকুপার ভা-ালীপাড়া গ্রামের পূর্ণিমা রানী জানান, মাইকিং শুনে তারা বুধবার সকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা নিতে এসেছিলেন। টিকা না নিয়ে ফিরে যেতে হয় তাদের। হাসপাতালে আর কোনো করোনার টিকা নেই বলে তাদের জানানো হয়েছে। অথচ মাইকিং করা হয়েছিল বুধবার প্রথম ডোজের শেষ দিন।

টিকাদান কেন্দ্রের স্বেচ্ছাসেবী রিয়া খাতুন জানান, রেজিস্ট্রেশনের কাগজ হাতে নিয়ে বুধবার সকাল থেকে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ করোনার টিকা নিতে আসে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সকালে বেশকিছু টিকা দেওয়ার পরে তারা জানতে পারেন আর কোনো টিকা অবশিষ্ট নেই।

শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রাশেদ আল-মামুন বলেন, হামলা ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে করোনার টিকা ফুরিয়ে যাওয়ায় টিকা নিতে আসা মানুষ সাময়িকভাবে উত্তেজিত হয়ে পড়ে। পরে পুলিশ এসে বিষয়টি শান্ত করে।