দায়িত্ব নিয়ে দুদক চেয়ারম্যান

জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের কাছাকাছি যাওয়াই লক্ষ্য

দুর্নীতি রোধে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, ‘দুর্নীতি রোধে জনগণের আকাঙ্ক্ষার দূরত্ব যেন কমে আসে, সেই চেষ্টা করা হবে। লক্ষ্য থাকবে, জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের কাছাকাছি যাওয়ার।’ গতকাল বুধবার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

এর আগে গত ৮ মার্চ দুদকের বিদায়ী চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছিলেন, ‘অতৃপ্তি হচ্ছে জন-আকাঙ্ক্ষা অনুসারে হয়তো দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।’ তার এমন মন্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ বলেন, ‘তিনি কথাটি বলেছিলেন তার প্রেক্ষাপটে। আমাদের চেষ্টা থাকবে জনগণের আকাঙ্ক্ষার দূরত্ব যেন কমে আসে। এসব বিষয় নিয়ে আমরা কমিশনে আলোচনা করব। সিদ্ধান্ত নিয়ে সেটাই আমরা করার চেষ্টা করব।’

পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বলেন, ‘সবকিছুর একটা পদ্ধতি থাকে। পদ্ধতি ও আইন মেনে যতখানি সুযোগ রয়েছে, সেটা করার চেষ্টা করব। দুর্নীতি দমনের জন্য সুনির্দিষ্ট আইন আছে। আমাদের লক্ষ্য থাকবে সব আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্নীতি রোধ বা নিশ্চিহ্ন করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো কোনো অনুসন্ধান বা তদন্তে দীর্ঘসূত্রতার একটি বিষয় আছে। দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে দুদকে অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি প্রতিরোধে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।’

এর আগে সকালে দুদকের নতুন চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ ও কমিশনার জহুরুল হক কর্মস্থলে যোগ দেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহকে গত ৩ মার্চ দুদকের নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয় সরকার। একই দিনে দুদকের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সাবেক চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক।

দায়িত্ব নিয়ে দুদকের নতুন কমিশনার জহুরুল হক বলেন, ‘দেশ থেকে প্রচুর টাকা পাচার হচ্ছে। এটা দেশের জন্য বড় সমস্যা। কমিশন তৎপর থাকবে যাতে কোনো অর্থ পাচার না হয়। আর যেগুলো পাচার হয়েছে সেগুলো ফেরত আনার বিষয়ে আরও কার্যকর প্রক্রিয়া মানা হবে। এ ব্যাপারে হাইকোর্ট কিছু সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন। আমাদের কাছে তালিকা চেয়েছেন । আমরা আদালতে তালিকা দেব। হাইকোর্ট যে অ্যাকশন নিতে বলবেন, সেই অ্যাকশন নেব।’