হবিগঞ্জে মারজানা আক্তার (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেছে দুর্বৃত্তরা, যে ছিল তিন বছর আগে তার বড় বোনকে কুপিয়ে হত্যা মামলার সাক্ষী। বানিয়াচং উপজেলার ইকরাম গ্রামে গত মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময় মারজানার ওপর হামলা হয়। পরে গতকাল বুধবার সকালে সংকটাপন্ন অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হামলার শিকার মারজানা স্থানীয় একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।
বানিয়াচং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রজিত কুমার দাশ জানান, ইকরাম গ্রামের প্রয়াত মোস্তফা মিয়ার মেয়ে মারজানা আক্তার মঙ্গলবার রাতে বাড়িতে একাই ছিল। তার মা মাধু মালা বাবার বাড়িতে গিয়েছিলেন, আর দুই ভাই মিজান ও মোশারফ বাড়িতে থাকেন না। গতকাল সকালে এক প্রতিবেশী তাকে ডাকতে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে মারজানাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে বেলা ১১টার দিকে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আবিদুর রেজা জানান, স্কুলছাত্রী মারজানার মাথার আঘাত গুরুতর। প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাকে সিলেটে রেফার করা হয়।
আহত মারজানার মা মাধু মালা বলেন, তার বড় মেয়ে ফারজানাকে তিন বছর আগে একই এলাকার কয়েকজন হত্যা করে। সেই হত্যা মামলার সাক্ষী ছিল ছোট মেয়ে মারজানা। আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বেশ কিছুদিন ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। তারাই ছোট মেয়েকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করেছে।
ইকরাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কদ্দুছ শামীম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হত্যা মামলার আসামিদের মধ্যে ফারজানার আপন ভাইও রয়েছে। এ ছাড়া জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের পারিবারিক বিরোধ চলে আসছে। ধারণা করা হচ্ছে, যেকোনো একটি বিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে।’
বানিয়াচং থানা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ফারজানা হত্যা মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই।
পুলিশের বানিয়াচং সার্কেলের অতিরিক্ত সুপার শেখ মো. সেলিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্কুলছাত্রী মারজানার ওপর হামলার খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে গিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেটে পাঠিয়েছি। আশা করি শিগগিরই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারব।’