বুড়িগঙ্গার পানিদূষণ বন্ধে নদীতীরবর্তী বিভিন্ন ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পয়ঃনিষ্কাশনের লাইন বা সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করে পয়ঃবর্জ্য নিঃসরণের ব্যবস্থা গ্রহণসহ বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে উচ্চ আদালত। ঢাকা ওয়াসা ও রাজধানী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষকে (রাজউক) নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ গত মঙ্গলবার এসব নির্দেশনা দেয়।সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আবেদনকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ওয়াসাকে বুড়িগঙ্গা নদীতীরবর্তী এলাকায় সব ভবন মালিক ও ব্যবসায়ী যাদের ভবনে পয়ঃপ্রণালি লাইনের সংযোগ বা সেপটিক ট্যাংকের ব্যবস্থা নেই কিন্তু পানির সংযোগ দেওয়া হয়েছে, তাদের ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে নোটিস দিয়ে ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে পানি শোধনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। এই নোটিস প্রদান এবং নোটিস সম্পর্কে অবগত হওয়ার জন্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় তা প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওয়াসাকে নদীতীরবর্তী এলাকার জনসাধারণকে জানাতে মাইকের মাধ্যমে এ বিষয়টি প্রচার করতে বলা হয়েছে।
অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ জানান, হাইকোর্ট আদেশে রাজউককে ৭টি নির্দেশনা দিয়েছে। এগুলো হলো কোনো লে-আউট প্ল্যানে সেপটিক ট্যাংক বা পয়ঃলাইন না থাকলে অনুমোদন না করা, সেপটিক ট্যাংক না থাকলে ভবনের দখলদারিত্বের সনদ না দেওয়া, আইন ভঙ্গ করে কাজ করলে ভবন নির্মাণ আইনের ১২ ধারায় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, ৩ থেকে ৬ মাসের নোটিস দিয়ে ভবনে পয়ঃপানি শোধনের ব্যবস্থা, অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা, পরবর্তী সময়ে তৈরিকৃত সেপটিক ট্যাংক মূল নকশার অংশ বিবেচিত হবে, নোটিসের পর কোনো ভবন মালিক পরিবর্তন না করলে ইমারত নির্মাণ আইনের ৭ ধারায় ব্যবস্থা গ্রহণ, ১৫ দিনের মধ্যে প্রথম অগ্রগতি প্রতিবেদন, পরে প্রতি ৩ মাসে প্রতিবেদন দাখিল।
বুড়িগঙ্গার পানিদূষণ বন্ধে পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে ২০১০ সালে দায়ের করা রিট মামলায় ২০১১ সালের ১ জুন হাইকোর্ট এক রায়ে ওয়াসার এমডিকে ৬ মাসের মধ্যে নদীতে সংযোগকৃত পয়ঃ বা বর্জ্য লাইন বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় সম্পূরক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের এ আদেশ আসে বলে জানান মনজিল মোরসেদ। আদালতে ওয়াসার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী উম্মে সালমা। রাজউকের পক্ষে ছিলেন ইমাম হোসেন।