দারিদ্র্যের কশাঘাতে জীবন-জীবিকার তাগিদে ঝাল মুড়ি বিক্রি করেন মাদারীপুরের মর্জিনা বেগম (৩৫)। অভাব-অনটনে এই ঝালমুড়ি বিক্রিই একমাত্র ভরসা।
মাদারীপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে ঝালমুড়ি বিক্রি করেই সংসার চলে মর্জিনার।
৭ বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরতে বাধ্য হয়েছেন। ঢাকাতে বিভিন্ন কাজ করে সংসারের খরচ চালাতে ব্যর্থ হয়ে শেষমেশ স্বল্প পুঁজি নিয়ে নিজেই নেমে পড়েছেন মাদারীপুর শহরে ঝালমুড়ি বিক্রি করতে।
মাদারীপুর শহরের বিভিন্ন স্থানে ঝালমুড়ির বাটি হাতে দেখা মেলে মর্জিনার।
মাদারীপুর সদর উপজেলা কেন্দুয়া ইউনিয়ন ৭নং ওয়ার্ডে ঘটকচর গ্রামে এবং মস্তফাপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা চতুরপাড়ায় মর্জিনা বেগমের বাবার বাড়ি।
মর্জিনা বেগমের স্বামী মুন্সিগঞ্জের ছালাম ব্যাপারী পেশায় ছিলেন একজন বেলুন বিক্রেতা। এক ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে ছিল তাদের অভাবের সংসার। ভিটেমাটিহীন স্বামীর সংসারে একটি ভাড়া বাড়িতে টেনেটুনে চলছিল মর্জিনার পাঁচ সদস্যের সংসার।
ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে স্বামী গত ৭ বছর আগে মারা যান। নিরুপায় হয়ে মর্জিনা ছেলেমেয়েদের নিয়ে চলে আসেন বাবার বাড়িতে। এখানে এসেও দারিদ্র্য পিছু ছাড়েনি তাকে। বাবার বাড়িতে বসতভিটে ছাড়া সম্পদ বলতে আর কিছু নেই।
মর্জিনার বড় ছেলে শাওন ব্যাপারী (১৪) দিনমজুরের কাজ করলেও তাতে চলছিল না সংসার। তবে হাল ছাড়েননি মর্জিনা।
অবশেষে স্বল্প পুঁজি নিয়ে মর্জিনা নিজেই নেমে পড়েছেন ঝালমুড়ি বিক্রি করতে। নিজ এলাকাতে লজ্জায় ঝালমুড়ি বিক্রি করতে না পারায় চলে আসেন মাদারীপুর শহরে। এখানে এসে ডিসি ব্রিজ ২নং শকুনি এলাকায় টিনশেডের বড়িতে ভাড়া থাকেন ছেলেমেয়েদের নিয়ে।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে ঝালমুড়ি বিক্রি করেন এই নারী।
ঝালমুড়ি বিক্রি করে দিনে আয় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আর তাতেই কোনো দিন কিছু টাকা থাকে আবার কোনো দিন খরচের টাকা দিয়ে সংসারের খরচ জোগাতে বাকি কিনতে হয়।
অসহায় মর্জিনা বেগম বলেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমি ঝালমুড়ি বিক্রি করি। অনেক কষ্ট হয় সংসার চালানোর জন্য। আমার সংসারে হাল ধরার মতো কোনো পুরুষ নেই। তিনটা বাচ্চা নিয়ে আমি অসহায়। নানান মানুষে নানান কথা বলে’ আমি মনে কিছু নেই না, আমার ছেলেমেয়েদের জন্যই তো করি। যদি পারেন আমারে কেউ একটা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেন।
ক্রেতা ওয়াহিদুজ্জামান কাজল জানান, তিনি (মর্জিনা) প্রতিনিয়ত এখানে এসে ঝালমুড়ি বিক্রি করে থাকেন। একটা মহিলা কতটা অসহায় হলে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ঝাল মুড়ি বিক্রি করেন।
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুদ্দিন গিয়াস বলেন, ‘মর্জিনা বেগমকে আত্মকর্মসংস্থান তৈরি করে দেয়ার মতো কোনো প্রকল্প আমাদের হাতে নেই। তবে সবাই যদি এগিয়ে আসে তাহলে আমি আমার ব্যক্তিগতভাবে তাকে সাহায্য করবো। পরবর্তীতে সরকারি কোনো প্রকল্প আমাদের হাতে আসলে তার বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় রাখবো।’