প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসকে বৈশ্বিক মহামারী ঘোষণার এক বছর পূর্ণ হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। গত বছর ১১ মার্চ করোনাভাইরাসকে বৈশ্বিক মহামারী ঘোষণা দিয়ে বিশ্বজুড়ে জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও)। বছর ঘুরে আসা দিনটিতে বিশ্বজুড়ে আরও সাড়ে ৯ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এই ভাইরাস। এতে মোট প্রাণহানি ২৬ লাখ ৩১ হাজারের কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
দৈনিক প্রাণহানি ও নতুন সংক্রমণ শনাক্তের দিক থেকে এখনো শীর্ষে ব্রাজিল। গত বুধবার রেকর্ড ২ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু দেখেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি। এদিন যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুবরণ করে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি। এছাড়া এদিন মেক্সিকোতে মারা গেছে ৮৬৬ জন। রাশিয়াও ৪৬৬ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে। ইতালি ও পোল্যান্ডে ৩৫০-এর ওপরে ছিল মৃত্যু।
দিনটিতে ৪ লাখ ৪৯ হাজারের মতো মানুষের শরীরে মিলেছে এই ভাইরাস। বিশ্বজুড়ে মোট সংক্রমিত ১১ কোটি ৮৬ লাখের ওপর।
আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় ৫ লাখ ৪২ হাজার ১৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্বে সর্বোচ্চ শনাক্তের সংখ্যাও এই দেশটিতে। এখন পর্যন্ত সেখানে ২ কোটি ৯৮ লাখ ৬২ হাজার ১২৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। সুস্থ হয়েছে ২ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার ২৭০ জন।
করোনা শনাক্তের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ১ কোটি ১২ লাখ ৮৪ হাজার ৩১১ জন। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ২১৩ জনের। মৃত্যু বিবেচনায় দেশটি বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। ভারতে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ১ কোটি ৯ লাখ ৩৫ হাজার ৪০৩ জন।
করোনাভাইরাস শনাক্তের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে ব্রাজিল। লাতিন আমেরিকার দেশটিতে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ১ কোটি ১২ লাখ ৫ হাজার ৯৭২ জন। মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার ৯১৭ জনের। মৃত্যুর দিক থেকে দেশটি বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ব্রাজিলে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ৯৯ লাখ ১৩ হাজার ৭৩৯ জন।
ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় রাশিয়ার অবস্থান চতুর্থ। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৪৩ লাখ ৫১ হাজার ৫৫৩ জন। মারা গেছেন ৯০ হাজার ২৭৫ জন। আর সুস্থ হয়েছে ৩৯ লাখ ৪৫ হাজার ৫২৭ জন।
আক্রান্ত বিবেচনায় পঞ্চম স্থানে থাকা যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে ৪২ লাখ ৩৪ হাজার ৯২৪ জন। মারা গেছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৮৭ জন। সুস্থ হয়েছে ৩৩ লাখ ৪৮ হাজার ৪৩৯ জন। তালিকায় ফ্রান্স ষষ্ঠ, স্পেন সপ্তম, ইতালি অষ্টম, তুরস্ক নবম ও জার্মানি দশম স্থানে রয়েছে।