ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ড. সাদেকা হালিমসহ তিন শিক্ষকের গবেষণায় প্ল্যাজিয়ারিজম (কুম্ভীলকবৃত্তি) বা চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় দেশ রূপান্তর সম্পাদক অমিত হাবিব, প্রকাশক মাহির আলী খাঁন রাতুল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি তানভীর হাসানকে উকিল নোটিস পাঠানোর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব ও তেজগাঁও কলেজ সাংবাদিক সমিতি। গতকাল বৃহস্পতিবার পাঠানো আলাদা বিবৃতিতে সংগঠনগুলো এই নিন্দা জানানোর পাশাপাশি অবিলম্বে উকিল নোটিসটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি দেশ রূপান্তরের শেষ পৃষ্ঠায় ‘সাদেকা হালিমসহ ৩ শিক্ষকের গবেষণার অধিকাংশ নকল’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ‘পার্টিসিপেশন অব উইমেন ইন অ্যাকুয়াকালচার ইন থ্রি কোস্টাল ডিসট্রিক অব বাংলাদেশ : অ্যাপ্রোচেস টুওয়ার্ডস সাসটেইনেবল লাইভলিহুড’ শিরোনামে ১৬ পৃষ্ঠার ওই সম্মিলিত গবেষণা প্রবন্ধটি ২০১২ সালে ‘ওয়ার্ল্ড জার্নাল অব অ্যাগ্রিকালচার সার্ভিসেসে’ প্রকাশিত হয়। তিন শিক্ষকের ওই গবেষণা প্রবন্ধটির ৮৮ শতাংশের সঙ্গে বিভিন্ন জার্নাল ও আর্টিকেলে প্রকাশিত লেখার মিল রয়েছে বলে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি শনাক্ত করার সফটওয়্যার টার্নইটইনে যাচাইয়ে দেখা গেছে। ড. সাদেকা হালিম ছাড়া অন্য দুই শিক্ষক হলেন বর্তমানে ঢাবির আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাউছার আহমেদ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শামীমা সুলতানা।
দেশ রূপান্তরে ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরদিন গত ২৩ ফেব্রুয়ারি একটি প্রতিবাদলিপি পাঠান অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। ওই প্রতিবাদলিপিটি পর্যবেক্ষণ তথা যাচাই-বাছাই করে ছাপা হওয়ার আগেই ৯ দিনের মাথায় ৪ মার্চ ড. সাদেকা হালিম ও ড. কাউছার আহমেদের পক্ষে দেশ রূপান্তর সম্পাদক, প্রকাশক ও ঢাবি প্রতিনিধিকে উকিল নোটিস পাঠানো হয়।
গতকাল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সালমান শাকিল ও সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসাইন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশ করায় আইনি নোটিস পাঠানো অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি নিঃসন্দেহে সংবাদকর্মী এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য হুমকিস্বরূপ। সাদেকা হালিম যত দ্রুত সম্ভব আইনি নোটিসটি প্রত্যাহার করবেন। সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
এদিকে তেজগাঁও কলেজ সাংবাদিক সমিতির আহ্বায়ক ইমরানুল আজিম চৌধুরী ও সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘আইনি নোটিস পাঠিয়ে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধ করার প্রয়াস চালানো হচ্ছে। আইনি নোটিসটি দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রত্যাহার করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’