অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকুন : তথ্যমন্ত্রী

যেকোনো অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে কে-ফোর্স অনলাইন সংগঠন আয়োজিত আলোচনা সভায় একথা বলেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এমনও হয় যে, ছেলেকে মেয়ে বা মেয়েকে ছেলে বানিয়ে দেওয়া, জীবিত মানুষ মরে গেছে সেই গুজবও পরিবেশিত হয়। পদ্মা সেতুতে বলি দেওয়ার গুজব রটিয়ে সারা দেশে ছেলেধরা আতঙ্ক ছড়ানোর অপচেষ্টায় নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। করোনায় দেশে হাজার হাজার লাশ পড়ে থাকার গুজব ছড়ানোর অপচেষ্টা হয়েছে। করোনার টিকা ভারতের টিকা, অন্যদের ওপরে পরীক্ষার জন্য, এই টিকা কোনো কাজ করবে না এমন গুজবও ছড়ানো হয়েছে। যারা ছড়িয়েছে, তারাই এখন টিকা নিচ্ছে, কেউ কেউ গোপনে নিয়েছে।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যখন ডিজিটাল বিষয়টি ছিল না, তখন ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়টিও ছিল না। যখন ডিজিটাল বিষয়টি চলে এসেছে এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনলাইনে মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সেই কারণেই এই আইন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও তা আছে। এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন একজন সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক, লেখক, গৃহিণী, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, রিকশাওয়ালা, গৃহবধূ সবার ডিজিটাল নিরাপত্তার দেওয়ার জন্য। যাতে কেউ কারও চরিত্রহরণ করতে বা অসত্য, ভুল সংবাদ পরিবেশন করে গুজব ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে না পারে।’

বিএনপি মহাসচিবের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উপস্থাপন করেছেন। ইসরায়েলপ্রীতি হচ্ছে বিএনপির। কারণ খালেদা জিয়া যখন সরকারে ছিলেন, তখন যখন ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে শত শত ফিলিস্তিনি হত্যা হলো তখন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এজন্য একটি শোক ও নিন্দা প্রস্তাব আনার জন্য পার্লামেন্টে পেশ করা হয়েছিল। খালেদা জিয়ার সরকার রাজি হয়নি, তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো প্রস্তাব দিতে রাজি নয়।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মাহজাবীন খালেদের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, ব্যারিস্টার মো. জাকির হোসেন, সৈয়দা সানজিদা সারমিন প্রমুখ।