হেলিপোর্ট নির্মাণে অর্থ পাচ্ছে না বেবিচক

আন্তর্জাতিক মানের একটি হেলিপোর্ট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল বেবিচক। এজন্য একটি ড্রয়িং ডিজাইনও অনুমোদন দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সবকিছু এগিয়ে যাওয়ার পর এখন প্রকল্পটি থমকে গেছে অর্থায়নে। কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পটির ব্যয় নিজস্ব অর্থায়নে করাটা বেশ দুরূহ হয়ে পড়েছে। কাজ শুরু করতে বেবিচক বিকল্প অর্থের সন্ধানে নেমেছে। এই জন্য সরকারের কাছে বিশেষ বরাদ্দের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। তবে কোনো দিক থেকে সহায়তার আশ্বাস মিলছে না। তাই বিভিন্ন এয়ারলাইনসের কাছে পাওনা অর্থ ওঠানোর চেষ্টা করছে বেবিচক। ইতিমধ্যে টাকা চেয়ে বিভিন্ন এয়ারলাইনসকে চিঠি পাঠিয়েছে বেবিচক। কোনো এয়ারলাইনস পাওনা অর্থ না দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও কথা বলা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা যে কোনো মূল্যে হেলিপোর্ট নির্মাণ করার দৃঢ়তায় রয়েছি। কারণ প্রকল্পটির প্রতি প্রধানমন্ত্রীরও বেশ আগ্রহ রয়েছে। উনার স্বপ্ন বা আগ্রহ বাস্তবায়নে বেবিচক সক্রিয় রয়েছে। অর্থায়নের উৎস নিশ্চিত হওয়া গেলেও চলতি বছরেই প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা যাবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন এয়ারলাইনসের কাছে বেবিচকের পাওনাগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ওইসব পাওনা টাকা পেলেই হেলিপোর্টের কাজ হয়ে যাবে। তাছাড়া প্রকল্পের অর্থের বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে অর্থ সংকট কেটে যাবে।   

সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, শাহজালালের পশ্চিমে থার্ড টার্মিনাল। আর পূর্বে হেলিপোর্ট হওয়ার কথা। থার্ড টার্মিনাল সম্পর্কে মানুষের সুস্পষ্ট ধারণা থাকলেও হেলিপোর্ট সম্পর্কে কারোর তেমন একটা ধারণা নেই। কী কারণে হেলিপোর্ট করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, বা এটি হলে কারা সুবিধা পাবে, কারা ব্যবহার করবে, বাণিজ্যিকভাবে কতটা সফল হবে এমন সব প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে বিভিন্ন মহলে। এরই মধ্যে হেলিপোর্টের ডিজাইন ও ড্রয়িং চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। জায়গাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বেবিচকের এক কর্মকর্তা গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেশে প্রথমবারের মতো এমন একটি পূর্ণাঙ্গ হেলিপোর্ট নির্মাণ করার চেষ্টা চলছে। প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একশ বিঘা জমির ওপর নির্মিতব্য এই স্থাপনায় ইতিমধ্যেই স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ ও পরামর্শে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হেলিপোর্ট নির্মাণ যতটা সম্ভব, দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গোল চত্বর লাগোয়া দক্ষিণে রেললাইনের পূর্ব প্রান্তে বেবিচকের নিজস্ব জমিতেই হেলিপোর্ট নির্মাণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, অর্থ সংকট কেটে গেলেই দ্রুততম সময়ে দরপত্র আহ্বান করা হবে। বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মালেক দেশ রূপান্তরকে জানান, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম সাউথ এশিয়ান এয়ারলাইনস নামে একটি কোম্পানি বাণিজ্যিক লাইসেন্স নিয়ে এই ব্যবসা শুরু করে। বর্তমানে ৯টি কোম্পানির ৩০টি হেলিকপ্টার রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরএনআর এয়ারলাইনসের ১০টি হেলিকপ্টার, সাউথ এশিয়ান এয়ারলাইনসের ৪টি, বসুন্ধরার ৩টি, স্কয়ার গ্রুপের ৩টি, বেক্সিমকোর ২টি, পিএইচপি গ্রুপের ১টি, বাংলা ইন্টারন্যাশনালের ১টি, বিআরবি কেবলসের ২টি, মেঘনা গ্রুপের ৩টি, ইমপ্রেস এভিয়েশনের ২টি, এমএএস বাংলাদেশের ২টি হেলিকপ্টার রয়েছে। তিনি জানান, কোম্পানিগুলো আরও সমানসংখ্যক হেলিকপ্টার আনার জন্য সিভিল এভিয়েশনে আবেদন করেছে।

বেবিচক সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত ডিজাইনে দেখা যায়, ৫৫ একর জমিতে সীমানা প্রাচীরবেষ্টিত এই হেলিপোর্ট। মূল কম্পাউন্ডের মধ্যে ইংরেজি ভি অক্ষরের আদলে সাজানো হয়েছে ১৩টি শেড। আকারভেদে কমপক্ষে ৭০টি হেলিকপ্টার পার্কিং করার সক্ষমতা থাকছে। শেডের সামনে উত্তর-দক্ষিণে দুটি করে বিশালাকৃতির হেলিপ্যাড রয়েছে যেখানে ওঠানামার জন্য এপ্রোচ করতে পারবে হেলিকপ্টার। তাছাড়া প্রতিটি শেডের সামনে নিজ নিজ কোম্পানির হেলিকপ্টারগুলো আলাদা ল্যান্ডিং করতে পারবে। তিন তলাবিশিষ্ট বিশাল টার্মিনালেই থাকবে প্যাসেঞ্জার লাউঞ্জ, নিজস্ব টাওয়ার, অ্যাডমিন ইউনিট, পৃথক ফায়ার সার্ভিস ইউনিট, ফুয়েল ট্যাংক, কার পার্কিং, ফুডকোর্ট এবং থ্রি হুইলার সিকিউরিটি সিস্টেম।