ভারত থেকে দেশে ফিরলেন ‘নিখোঁজ’ দুই বাংলাদেশি

দীর্ঘ দিন নিখোঁজ থাকার পর ভারতের ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন এক নারীসহ দুই বাংলাদেশি। তারা দুজনেই মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।

তারা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার গুড়িগ্রামের আসমত আলীর মেয়ে সায়েস্তারা বেগম (৫০) এবং ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার ঝুমারকান্দা গ্রামের শশদর মজুমদারের ছেলে সমীর কুমার মজুমদার (৩৫)।

সায়েস্তারা বেগম ১৩ বছর এবং সমীর কুমার মজুমদার ৮ বছর আগে হারিয়ে যান। তবে তারা কবে, কীভাবে ভারতে চলে গিয়েছিলেন এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারেননি।

শুক্রবার দুপুরে আখাউড়া স্থল বন্দর দিয়ে তাদেরকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন ত্রিপুরাস্থ বাংলাদেশের সহকারী কমিশনের কর্মকর্তারা।

এদিকে দীর্ঘ দিন পর হারিয়ে যাওয়া বোন ও ভাইকে ফিরে পেয়ে খুশিতে আত্মহারা তাদের স্বজনরা।

সায়েস্তারা বেগমের ভাই মো. জয়নাল আবেদীন জানান, মানসিকভাবে অসুস্থ সায়েস্তারা বেগমকে ১৩ বছর আগে চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরে নিয়ে গেলে সেখান থেকে সে হারিয়ে যায়। এরপর বহু খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে খাইরুল আলম নামে একজন মানবাধিকার কর্মীর মাধ্যমে জানতে পারি আমার বোন ভারতের ত্রিপুরা হাসপাতালে আছে। তারপর সরকারিভাবে অনেক যোগাযোগ করে আজকে বোনকে ফিরে পেয়েছি। দীর্ঘদিন পর বোনকে পেয়ে আমরা খুব খুশি।

এদিকে নিখোঁজ সমীর মজুমদারের ভাই অমীর মজুমদার বলেন, আমার ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। ৮ বছর পর ভাইকে ফিরে পেয়ে খুব ভালো লাগছে।

আখাউড়া চেকপোস্টের নো ম্যান্স ল্যান্ডে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলার বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার মোহাম্মদ জোবায়েদ আহমেদ বলেন, সায়েস্তারা ও সমীর আগরতলার মডার্ন সাইক্রিয়াটিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতালের মাধ্যমে তাদের খবর জানতে  পেরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে তাদেরকে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। আগরতলার মডার্ন হাসপাতালে আরও ২২ জন বাংলাদেশি আছে। তাদের মধ্যে ১৪জন সুস্থ আছে। বাকিরা পুরোপুরি সুস্থ নয়। পর্যায়ক্রমে তাদেরকেও দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। 

তিনি আরও বলেন, ত্রিপুরার পুলিশ তাদের অসংলগ্ন অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে দেখে আটক করে। পরবর্তীতে তারা মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় আদালতের মাধ্যমে তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নূর-এ-আলম, ত্রিপুরার বাংলাদেশের সহকারী কমিশনের প্রথম সচিব এস.এম. আসাদুজ্জামান।