বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আচরণের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কোনো তফাৎ আমি দেখি না। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সরকারের তফাৎ কোথায় তা আমাকে বোঝাবেন একটু?’ একই সঙ্গে অতীত স্মরণ করে কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের চতুর্থ জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
সকাল ১০টায় মহানগর নাট্যমঞ্চের প্রাঙ্গণে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, রঙিন বেলুন ও সাদা কবুতর উন্মুক্ত করে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিএনপি মহাসচিব ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু। বেলা ৩টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্ব কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সারা দেশ থেকে সংগঠনটির ৫৪৮ জন কাউন্সিলর অর্থাৎ ৭৯টি সাংগঠনিক জেলার ৩৯৫ জন এবং কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির ১৫৩ জন প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। উদ্বোধনীর অনুষ্ঠানের বক্তব্যের পর সংগঠনের বিধান অনুযায়ী নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের আগে কৃষক দলের ১৫৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব। বিকেলে কাউন্সিল অধিবেশনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন হবে। গত বছর ২৭ ফেব্রুয়ারি শামসুজ্জামান দুদুর নেতৃত্বে ১৫৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে বিএনপি।
সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় বসে আছেন, দখল করে বসে আছেন। পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সঙ্গে আপনাদের তফাৎ কোথায় তা আমাকে বোঝাবেন একটু? আমি পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সঙ্গে আপনাদের কোনো তফাৎ দেখি না। তারাও জোর করে বন্দুক দিয়ে মানুষকে মেরে ক্ষমতা দখল করে বসেছিল। আপনারা আজকে সেই একই কায়দায় মানুষকে হত্যা করে, নির্যাতন করে, জোর করে ক্ষমতায় বসে আছেন।’
তিনি বলেন, ‘দয়া করে অতীতের কথা, যখন আপনারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছিলেন, সেই কথা চিন্তা করে আওয়ামী লীগকে যদি বাঁচাতে চান তাহলে অবিলম্বে যা আপনারা করেছেন তার জন্য মাফ চেয়ে দেশের মানুষের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যবস্থা করেন। পদত্যাগ করেন, নির্বাচন দিন, নতুন নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচনে নতুন সরকার আসুক, নতুন পার্লামেন্ট আসুক।’
‘আজকে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে যা ঘটছে সেটাই সারা দেশের চিত্র’ এমন মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, ‘আপনি আগে নিজের ঘরকে শিক্ষা দিন। আপনার ভাই কাদের মির্জা সাহেব আপনার সম্পর্কে যেসব কথা বলেন, আপনাদের নেতাদের সম্পর্কে বলেছেন, সেটার পরে তো আপনাদের থাকার কথা নয়, পদত্যাগ করা উচিত। আপনারা নিজের ঘরে নিজেরা মারামারি করে, দলাদলি করে এরই মধ্যে দুজনকে হত্যা করেছেন। এর মধ্যে একজন সাংবাদিক, একজন রাজনৈতিককর্মী। কোনো বিচার নেই। এটাই সমগ্র বাংলাদেশের চিত্র।’
‘বাংলাদেশে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দিনে দিনে কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে’ এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা তুলে ধরতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা একটা কঠিন সময় পার হচ্ছি, একটা সংকটময় মুহূর্ত পার হচ্ছি। খালেদা জিয়াকে অন্যায় মামলায় সাজা দিয়ে আটক করে রাখা হয়েছে। তিনি অসুস্থ। এই দুই-তিন দিন আগে তার আরও ছয় মাস সাজা স্থগিত করা হয়েছে বলছে। কোথায় সাজা স্থগিত করছে?’
কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এস কে সাদীর পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন কৃষক দলের নেতা সৈয়দ মেহেদি আহমেদ রুমি, এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেন, নাজিমউদ্দিন, আফতাব উদ্দিন আহমেদ ম-ল, জামালউদ্দিন মিলন, এমএ হালিম, নাসির হায়দার, জিয়াউল হায়দার পলাশ প্রমুখ।