আওয়ামী লীগ দলীয় নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) একরামুল করিম চৌধুরী এবং ফেনী-২ আসনের এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীর অস্ত্র তার ওপর ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।
এছাড়া কোম্পানীগঞ্জের ঘটনায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তদন্তের পাশাপাশি বিচার বিভাগীয় তদন্তও দাবি করেছেন তিনি।
কাদের মির্জা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোটভাই।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভা ভবনে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কাদের মির্জা এসব দাবি করেন।
তিনি বলেন, ‘গতকাল থেকে আবার নতুন করে আমার অনুসারী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, হামলা ও গ্রেপ্তার এগুলো সব হচ্ছে। সারারাত প্রত্যেকটা নেতাকর্মীর বাড়িতে গিয়ে পুলিশ এবং প্রশাসনের লোকজন ধাওয়া করেছে গ্রেপ্তারের জন্য। তাদের পরিবারগুলোকেও নানাভাবে নির্যাতন করেছে।’
কাদের মির্জা বলেন, ‘এমপি নিজাম হাজারী ও একরাম চৌধুরীর অস্ত্র আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার হচ্ছে। তার ওপর গতকাল রাতে একরাম চৌধুরীর বাড়িতে নিজাম হাজারী আর একরাম চৌধুরীর নির্দেশে আমাকে হত্যা করার জন্য বৈঠক করে। আমার এখানে আবারও হামলা করার তারা একটা প্রক্রিয়া করছে।’
তবে তিনি বলেন, ‘এখন আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি না। আমি আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল। তবে আমার অনুসারী নেতাকর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।’
ওবায়দুল কাদেরের ছোটভাই বলেন, ‘এখন প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেবে, সরকার কী পদক্ষেপ নেবে, এটা ওনাদের বিষয়। যতক্ষণ আমার এক ফোঁটা রক্ত আছে, আমি এখান থেকে সরবো না। আমি এটাতে আছি।’
তিনি বলেন, ‘আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলবো। আমি সাহস করে সত্য কথা বলবো। এটা কার বিপক্ষে যায়, কার বিরুদ্ধে যায়, সেটা আমার জানার বিষয় নয়।’
এ সময় তার অনুসারী আট নেতাকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ করেন কাদের মির্জা।
তিনি বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার আবেদন- আপনি দলীয়ভাবে এখানে জেলা কমিটিকে তদন্তভার দিয়েছেন। এদেরতো কমিটিটাও অনুমোদন হয়নি। এরা একপেশে। তারাতো সন্ত্রাসীদের মদদ দিচ্ছে। তাদের থেকে সঠিক তথ্য দল পাবে?’
‘সেজন্য আমি প্রস্তাব করছি- আমাদের তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং আমাদের এ অঞ্চলের নেতা সুজিত রায় নন্দী- এ দুজনসহ যাদেরকে দেন ওনারা তদন্ত করে যদি আমি দোষী সাব্যস্ত হই কিংবা আমার দলের নেতাকর্মী দোষী সাব্যস্ত হয়, তাহলে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক’ যোগ করেন কাদের মির্জা।
তিনি বলেন, ‘ঘটে যাওয়া সকল ঘটনার জন্য ঢাকা থেকে বিচার বিভাগীয় তদন্তের ব্যবস্থা করেন। যদি নোয়াখালী থেকে করে তাহলে প্রভাবিত হবে। আর না হলে এনএসআই, ডিজিএফআই আছে, তাদেরকে দিয়ে তদন্ত করেন। যদি আমি এবং আমার অনুসারী যারা আছে, অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে আমাদের যে শাস্তি দেবেন, সে শাস্তি মাথা পেতে নেবো।’
এর আগে শনিবার সকালে তিনি বেশকিছু নেতাকর্মী নিয়ে বসুরহাট পৌরসভা এলাকায় মহড়া দেন।