স্বস্তির বৃষ্টি নিয়ে বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী

মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখীর দেখা মিলল গতকাল শনিবার। এদিন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখীর সঙ্গে নেমেছে বৃষ্টি। ঝড়ে ধুলাবালি অস্বস্তি দিলেও কয়েকদিনের তীব্র গরমে স্বস্তি দিয়েছে বৃষ্টি। ঝড়ের কবলে পড়ে এদিন শিমুলিয়া- বাংলাবাজার নৌরুটে পৌনে এক ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। এ মৌসুমে এর আগে আরও দু’একদিন অল্প কিছু জায়গায় সামান্য মাত্রায় ঝড়ো হাওয়া বা বৃষ্টির দেখা মিললেও গতকালই তুলনামূলক বেশি এলাকায় একযোগে ঝড় এবং বৃষ্টির দেখা মিলল। এদিন রাজধানীতে বিকেল সাড়ে চারটার পর থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে অন্ধকার নেমে আসে। পৌনে ৫টার দিকে ধূলিঝড় শুরু হয়, তারপর বৃষ্টি নামে। প্রায় ২০ মিনিট বৃষ্টি হয়। আগারগাঁওয়ের আবহাওয়া দপ্তরে এদিন ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, বৃষ্টির কারণে আজ তাপমাত্রা কিছুটা কমবে। তবে আগামী দু-তিনদিন পর তাপমাত্রা আরও বাড়বে, তখন ঝড়-বৃষ্টিও বাড়তে পারে। অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলাম গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাজধানীসহ দেশের বেশ কিছু স্থানে ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। তবে এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত কোথাও শিলাবৃষ্টির খবর পাওয়া যায়নি। বছরের এই সময়ে আবহাওয়ার আচরণ বুঝা কঠিন। তাপমাত্রা এবং ঝড়-বৃষ্টি কখনো বাড়ে কখনো কমে। তবে আগামী দুই তিনদিন পর সারা দেশেই তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে, তখন ঝড়-বৃষ্টিও বাড়তে পারে।

সারা দেশে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৪৩টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে গতকাল অন্তত ১৫টি কেন্দ্রে বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এলাকাগুলোর মধ্যে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টি হয়েছে টাঙ্গাইলে। সেখানে গতকাল ২৪ ঘণ্টায় ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে অধিদপ্তর। এছাড়া বগুড়া ও কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৬ মিলিমিটার করে বৃষ্টি হয়েছে। চাঁদপুর ও নীলফামারীর ডিমলায় ২ মিলিমিটার করে বৃষ্টি হয়েছে। বাকি এলাকাগুলোতে এক মিলিমিটার বা সামান্য পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে গত দুদিন ধরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেড়ে মৃদু মাত্রার তাপপ্রবাহের মাত্রায় পৌঁছেছে। তবে গতকাল আগের দিনের চেয়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সামান্য কমেছে। আগের দিন সীতাকু- ও রাঙ্গামাটিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি থাকলেও গতকাল ওই দুই স্থানেই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা ৩৬-৩৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে তাকে মৃদুমাত্রার তাপপ্রবাহ বলা হয়ে থাকে। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল শ্রীমঙ্গলে ১৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গত দুদিন ধরে রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ দশমিক ৭ ডিগ্রিতে থাকলেও আকাশে মেঘ থাকায় গরম বেশি অনুভূত হয়েছে। তবে গতকালের বৃষ্টিতে অনেকটাই স্বস্তি নেমেছে। অন্যদিকে গতকাল রাজধানীতে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, এদিন এরচেয়ে বেশি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল কেবল কক্সবাজারে।

আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, কুমিল্লা অঞ্চলসহ রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। এছাড়া আগামী পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে তাপমাত্রা বাড়তে পারে।

শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে পৌনে এক ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ : কালবৈশাখীর কবলে পড়ে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে গতকাল বিকেলে পৌনে এক ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। তবে এ সময় কোনো ফেরি মাঝ পদ্মায় নোঙরে ছিল না। বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের সহ-মহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিকেল পৌনে ৫ টার দিকে আকস্মিক পদ্মা অববাহিকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। এ সময় পদ্মায় দক্ষিণবঙ্গের শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় নৌরুটে চলাচলরত ১৩টি ফেরি শিমুলিয়া ও বাংলাবাজার ঘাটের উভয় প্রান্তে নোঙরে থাকে। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঝড়ো হাওয়া কমে গেলে ফেরি চলাচল পুনরায় চালু হয়।