শ্রীলঙ্কা সরকার জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে জনসমক্ষে বোরকা ও নেকাবসহ সব ধরনের মুখ ঢাকা পোশাক পরা নিষিদ্ধ করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। বিবিসি এক প্রতিবেদনে দেশটির জননিরাপত্তা মন্ত্রী সারাত উইরাসেকারার বরাতে বলা হয়েছে, বোরকা নিষিদ্ধ করার এক নির্দেশে তিনি সই করেন। এখন পার্লামেন্টের অনুমোদন পেলেই আইন কার্যকর করা যাবে। আর সেটি খুব শিগগিরই হবে বলে আশা মন্ত্রীর।
প্রায় দুই বছর আগে খ্রিস্টানদের ইস্টার সানডের দিন শ্রীলঙ্কায় হোটেল ও কয়েকটি গির্জার ওপর সমন্বিত কয়েকটি হামলার পর দেশটির সরকার এই উদ্যোগ নিচ্ছে। ওই হামলায় আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীরা ক্যাথলিকদের গির্জা ও পর্যটকদের হোটেল টার্গেট করে হামলা চালায়। প্রাণ হারায় আড়াইশর বেশি মানুষ। ইসলামিক স্টেট জঙ্গি গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করে।
কর্র্তৃপক্ষ জঙ্গিদের ধরতে অভিযান চালায় এবং সে সময় সংখ্যালঘু বৌদ্ধদের এই দেশটিতে জরুরিকালীন পদক্ষেপ হিসেবে সব ধরনের মুখ ঢাকা পোশাক পরার ওপর স্বল্পমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এখন দেশটির সরকার এই নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে চালু করার উদ্যোগ নিল।
উইরাসেকারা সাংবাদিকদের বলেন, বোরকা সাম্প্রতিককালে মাথাচাড়া দেওয়া ধর্মীয় উগ্রবাদের একটা লক্ষণ, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি। তাই স্থায়ীভাবে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
মন্ত্রী বলেন, তারা এক হাজারের বেশি মাদ্রাসা বন্ধ করারও পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, যেকেউ স্কুল খুলে শিশুদের যা খুশি পড়াতে পারে না। সরকারের শিক্ষানীতি মেনে সব স্কুলে পাঠদান করতে হবে।’
এদিকে শ্রীলঙ্কার মুসলিম কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিলমি আহমেদ বলেছেন, ‘যেকোনো কর্মকর্তারা যদি বোরকা পরা কারোর পরিচিতি জানতে চান, সেক্ষেত্রে তাদের যদি সমস্যা হয়, তাহলে পরিচিতি জানার জন্য তাদের মুখের ঢাকা সরাতে বললে কেউ তাতে আপত্তি জানাবে না।’
তিনি বলেন, ‘ধর্ম বিশ্বাস যার যেটাই হোক না কেন মুখ ঢেকে চলাফেরা করার অধিকার প্রত্যেকের আছে; অধিকারের বিচারে সেটা বিবেচনা করতে হবে, শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সেটা বিচার করলে হবে না।’