নড়াইলে এক গৃহবধূর মাথার চুল ও ভ্রু কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে অস্ট্রিয়া প্রবাসী স্বামীর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। অসুস্থ অবস্থায় ওই গৃহবধূকে শনিবার নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত স্বামীর ছোট ভাইয়ের দাবি ভাইকে ফাঁসাতে এ নাটক সাজানো হয়েছে।
জানা গেছে, শহরের দুর্গাপুর মহিলা কলেজ এলাকার অস্ট্রিয়া প্রবাসী সজিব মুস্তারি প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সাড়ে চার বছর আগে নির্যাতনের অভিযোকারী তরুণীকে বিয়ে করেন।
সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওই নারী শনিবার ভোর ৫টার দিকে জরুরি বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে চলে যান। দ্বিতীয় দফায় একই দিন বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটে আবার হাসপাতালে ভর্তি হন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ওই গৃহবধূ অভিযোগে জানান, বিয়ের পর জানতে পারি স্বামী মাদকাসক্ত ও পূর্বের স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। স্বামী দেশে ফিরলে এ নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলেই নির্যাতন শুরু হয়। দাম্পত্য জীবনে দু’সন্তানের মা হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। এখন প্রথম স্ত্রীকে আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। শুক্রবার গভীর রাতে স্বামী ও শশুর-শাশুড়ি আমাকে বেদম মারধর ও জোর করে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়। পরে গভীর রাতে জ্ঞান ফিরে এলে দেখি মাথার চুল ও ভ্রু কাটা। বিষয়টি ফোনে স্বজনদের জানালে তারা ভোর রাতে পুলিশ এনে আমাকে উদ্ধার করে।
গৃহবধূর মায়ের অভিযোগ, সজিব মুস্তারির পরিবারের অর্থ-বিত্ত থাকায় তারা মানুষকে অমানুষ মনে করে। সবকিছু অর্থ দিয়ে কিনতে চায়। আমার মেয়েকে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে তাকেই অপবাদ দেয়ার চেষ্টা করছে।
সজিবের ছোট ভাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মীর্জা গালিব সতেজ বলেন, ভাবির বাবা প্রায় ১৫ লাখ টাকার দেনা। ভাবি ভাইকে দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিচ্ছেন এ টাকা পরিশোধের জন্য। ভাবিকে ফ্ল্যাট কিনে দিতে হবে এবং তার নামে ব্যাংকে টাকা রাখার দাবি করতেন। ভাবি নিজেকে ছাড়া কিছুই চেনেন না। এ ছাড়া ভাবি ফেইসবুক এবং ইনস্টাগ্রামে বিভিন্ন যুবকের সঙ্গে অনৈতিক যোগাযোগ রাখতেন, যা ভাই পছন্দ করতেন না। এসব নিয়ে ভাই-ভাবির মধ্যে পারিবারিক ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে ভাবি নিজেই নিজের চুল কাটা শুরু করেন, যার ভিডিও ধারণ করা আছে এবং আমাদের বাসার গৃহকর্মী পলি তা দেখেছে। ভাইকে ফাঁসাতে এসব নাটক করা হয়েছে।
তবে মীর্জা গালিব যে ভিডিও প্রতিবেদককে দেখিয়েছেন তা চুল কাটার ভিডিও ছিল না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ভাবির বিভিন্নজনের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়েও তিনি কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
যোগাযোগ করা হলে প্রধান অভিযুক্ত সজিব মুস্তারির ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন বলেন, মেয়েপক্ষের অভিযোগ পেয়ে স্বামীর বাড়ি থেকে গৃহবধূকে মাথা ন্যাড়া অবস্থায় উদ্ধার করে আনা হয়। এ ঘটনায় স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িকে আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে। আসামিরা পলাতক রয়েছেন। বিষয়টির তদন্ত চলছে।