রাজশাহী কল্পনা সিনেমা হল থেকে তালাইমারী মোড় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কিন্তু প্রকল্পের প্রায় ছয় বছর পার হয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। এর আগে তিনবার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এর বাড়তি বরাদ্দ চেয়ে চতুর্থবারের মতো প্রকল্প সংশোধন করেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (আরসিসি)। এতে ১২৭ কোটি টাকার প্রকল্প ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১৬৪ কোটি টাকায়। আগামীকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) প্রকল্পের সংশোধনে প্রস্তাব উপস্থাপন করা হচ্ছে। সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করবেন। এর আগে একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী একান্ত অপরিহার্য না হলে প্রকল্প সংশোধন পরিহার এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে যেকোনো ধরনের গাফিলতি হলে প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছিলেন, কোনোভাবেই দুবারের বেশি প্রকল্প সংশোধনী করা হবে না।
একনেক সভার কার্যপত্র থেকে দেখা যায়, রাজশাহী মহানগরীর বিদ্যমান সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে একটি কার্যকর যানজটমুক্ত নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। রাজশাহী মহানগরীর তালাইমারী, রামচন্দ্রপুর, শেখেরচক, আলুপট্টি মোড় এলাকায় এটি বাস্তবায়ন হওয়ার কথা। ২০১৫ সালের জুলাই হতে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর নাগাদ এর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রথমবার ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে মেয়াদ বৃদ্ধি ২০১৮ সাল নাগাদ মেয়াদ বাড়ানো হয়। এরপর আরও তিনবার মেয়াদ বাড়ানো হয়। নতুন করে জুন ২০২১ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যে বাড়তি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অনুমোদনকালে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১২৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে ১৬৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা করার কথা বলা হয়েছে।
প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হিসাবে বলা হয়, প্রস্তাবিত প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে ভূমি অধিগ্রহণ খাতে ভূমির প্রকৃত পরিমাণ ৩.৩৯৯ একরের পরিবর্তে ৪.৩২৬৩ একর হয়েছে। অবকাঠামোর পরিমাণ ২৪১৫১.৯৫ বর্গমিটারের পরিবর্তে ২০১২৩.৫০ বর্গমিটারে হ্রাস, ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় ২৬ কোটি ২৮ লাখ টাকার পরিবর্তে ৫০ কোটি টাকা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণ ব্যয় হ্রাস পেয়েছে, রেড শিডিউল পরিবর্তনের কারণে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যয় বেড়েছে। এছাড়া বিশ্বব্যাপী কভিড-১৯ মহামারীর কারণে প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় অতিরিক্ত ছয় মাস অর্থাৎ জুন ২০২১ তারিখ পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রধান কার্যক্রম ছিল ভূমির ক্ষতিপূরণ-৪.৩২৬৩ একর, কাঠামোর ক্ষতিপূরণ-২০১২৩.৫০ বর্গমিটার, সড়ক ও মহাসড়ক-২.৫০ কিলোমিটার, কালভার্ট-৪টি, নিকাশ কাঠামো-৬.২৩৩ কিলোমিটার, পানি সরবরাহ লাইন স্থানান্তর-২.৫০ কিলোমিটার, লাইন ও তার (পোল স্থানান্তর)-২.৫০ কিলোমিটার, গ্যাস লাইন স্থানান্তর-২.৫০ কিলোমিটার, ফুটপাত নির্মাণ-৫.০৪ কিলোমিটার, সড়ক বিভক্তিকরণ-২.৫৩ কিলোমিটার ইত্যাদি।
পরিকল্পনা কমিশন বলছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজশাহী মহানগরীর বিদ্যমান রাস্তা প্রশস্তকরণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে একটি কার্যকর যানজটমুক্ত নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। বর্ণিতাবস্থায় প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।