গ্রেপ্তার দেখানোর আগে ‘অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে নির্যাতন চালানোর’ অভিযোগে কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের অভিযোগটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর দায়রা আদালত। গতকাল রবিবার এ আদেশ দেন আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ। আদেশে কিশোরকে ‘নির্যাতনের’ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক-কান-গলা, মেডিসিন এবং অর্থোপেডিকস বিভাগের প্রধানদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) তাপস কুমার পাল। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘তিনি (কিশোর) অভিযোগ করেছেন যে, তাকে আটক ও গ্রেপ্তারের সময় থেকে নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতনের কোনো চিহ্ন রয়েছে কি না তা মেডিকেল বোর্ড খতিয়ে দেখবে এবং আদেশ পাওয়ার ২৪ কর্মঘণ্টার (তিন দিন) মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।’
এর আগে গত ১০ মার্চ আদালতে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেছিলেন কিশোর। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাগারে যাওয়ার ১০ মাস পর সম্প্রতি হাইকোর্টের আদেশে জামিনে মুক্তি পান তিনি। মামলার আরজিতে কিশোর উল্লেখ করেন, গত বছরের ৫ মে রমনা থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কিন্তু এর তিন দিন আগে ২ মে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ‘সাধারণ পোশাকের ১৬-১৭ জন লোক’ কাকরাইলের বাসা থেকে তাকে হাতকড়া ও মুখোশ পরিয়ে ‘অজ্ঞাত এক নির্জন জায়গায়’ নিয়ে যায়। তিন দিন তাকে সেখানে ‘নির্যাতন করা’ হয় বলে অভিযোগ করেন কিশোর। কিশোর উল্লেখ করেন, ধরে নিয়ে যাওয়ার পর অজ্ঞাত স্থানে তাকে ‘মারধর করা’ হয়। তার কানে ‘প্রচন্ড জোরে থাপ্পড় মারা’ হয়। পরে ‘স্টিলের পাত বসানো লাঠি দিয়ে’ তাকে ‘পেটানো হলে যন্ত্রণা ও ব্যথায়’ তিনি সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন।
করোনাভাইরাসজনিত সংক্রমণের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী ‘প্রচার ও গুজব ছড়ানোর’ অভিযোগে গত বছরের ৬ মে কিশোর ও মোশতাক আহমেদকে (২৫ ফেব্রুয়ারি কারাগারে অসুস্থ হয়ে মারা যান) গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় র্যাব। পুলিশ তখন জানায়, কার্টুনিস্ট কিশোর তার ‘আমি কিশোর’ নামের ফেইসবুক পেইজে করোনাভাইরাস বিষয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়ে ‘সমালোচনামূলক কার্টুন-পোস্টার’ প্রচার করতেন।