মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন নিয়ে সতর্ক করল হাইকোর্ট

দেশের সব মাদ্রাসায় শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের মতো ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে বিষয়ে সতর্ক করে এ নিয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা  কার্যকর করতে বলেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকের নির্মম মারধরের শিকার আট বছর বয়সী শিশুটির পড়াশুনা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে বলেছে আদালত।

সম্প্রতি হাটহাজারীর একটি মাদ্রাসায় এক শিশুকে বেধড়ক মারধর করেন মাদ্রাসার শিক্ষক মোহাম্মদ ইয়াহিয়া ইসলাম। বিষয়টি গত ১১ মার্চ হাইকোর্টের নজরে আনা হলে ওই  শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগসহ কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা বিস্তারিত জানতে চায় হাইকোর্ট। এর ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও হাটহাজারী থানার ওসির দেওয়া প্রতিবেদন গতকাল রবিবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের বেঞ্চে উপস্থাপন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।  

প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, ওই  শিক্ষকের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৩৪২ ও ৩২৩ ধারা এবং শিশু আইনের অধীনে গত ১০ মার্চ মামলা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. ইয়াহিয়াকে গ্রেপ্তার  করে নি¤œ আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে  পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে ইতিমধ্যে বরখাস্ত করার পাশাপাশি শিশুটিকে হাটহাজারী উপেজলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিশুটিকে মানসিকভাবে প্রফুল্ল রাখার চেষ্টা চলছে।

শুনানিকালে হাইকোর্ট বলে, মাদ্রাসায় শিশুরা বিভিন্ন ধরনের শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। এ ধরনের ঘটনা রোধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। এই নির্দেশনা কার্যকরে মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ যেন সতর্ক থাকে। শারীরিক নির্যাতনের শিকার ওই শিশুটির পড়াশুনা যাতে বন্ধ না হয় সে বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে খেয়াল রাখতে বলেছে আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, ‘আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছে, ‘দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে। শিক্ষানীতি, আইন এবং হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে যে, শিক্ষার্থীদের কোনোরকম নির্যাতন, ভয়ভীতি দেখানো কিংবা চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। যদি এর ব্যত্যয় ঘটে তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে হাইকোর্ট।’

গত মঙ্গলবার বিকেলে হাটহাজারী পৌর এলাকার আল মারকাযুল কোরআন ইসলামিক অ্যাকাডেমির আবাসিক শিক্ষার্থী ছেলেকে তার মা দেখতে যান। মা চলে যাওয়ার সময় শিশুটি মায়ের পেছন ছুটে যায়। এটি দেখে ক্ষিপ্ত শিক্ষক ইয়াহিয়া শিশুটির ঘাড় ধরে মাদ্রাসার একটি কক্ষে নিয়ে নির্মমভাবে পেটান। মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়।