‘বাস্তবতার সঙ্গে তাল না মেলাতে পেরে’ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

সাভারে নিজ ফেইসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়ে বংশী নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বিকাশ ইসলাম (১৮) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর তার মরদেহটি উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা।

সোমবার সকালে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার চালিয়ে বেলা ১০ টার দিকে নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। 

রবিবার রাত আটটার দিকে সাভারের নামাবাজার এলাকার সাভার-ধামরাই সংযোগ সেতুর ওপর থেকে লাফিয়ে পড়ে ওই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে সোমবার সকালে ফায়ার সার্ভিসের সাত সদস্যের একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে কাজ শুরু করেন।

ডুবুরি দলের নেতৃত্ব দেয়া ঢাকা সিদ্দিক বাজার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ সঞ্জয় খান বলেন, প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে বংশী নদীতে নিখোঁজ যুবকের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন। পরে মরদেহটি সার্বিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হতাশার কারণে পরিবারের সদস্য এবং সমাজের কাছে নিজেকে খাপ খাওয়াতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় বিকাশ ইসলাম। তিনি এ নিয়ে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একটি স্ট্যাটাসও দেন।

স্ট্যাটাসটিতে তিনি লিখেছেন, ‘কৃতজ্ঞতা জানাই আমার পরিবার, আত্মীয়স্বজন,বন্ধু-বান্ধব ও আমার প্রিয় মানুষটাকে। আমার কারও প্রতি কোনো ক্ষোভ, রাগ, অভিমান নাই। যা করছি বাস্তবতার সাথে তাল না মেলাতে পারার জন্যই করছি। আমি হেরে গেছি, আমি ব্যর্থ। অনেক ইচ্ছা ছিল নিজে কিছু করে বাবা-মার সেবা যত্ন করার। কিন্তু বাস্তবতা আসলেই কঠিন যা অনেকে মেনে নিতে পারে আবার অনেকে পারে না আমি না পারার দলেই পরলাম। মা পারলে মাফ করে দিয়ো।

নিহত বিকাশ ইসলাম কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানার বহির মজি সদরঘাট গ্রামের আমান উল্লার ছেলে। সে পরিবারের সাথে রেডিও কলোনি এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে জাহাঙ্গীরনগর স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করত।