দেশের পুঁজিবাজারে প্রবাসীদের বিনিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এরই অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই বিদেশে ডিজিটাল বুথ চালু করা হয়েছে। নিটা অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আইপিও আবেদনে খরচ কমানোসহ প্রবাসীদের জন্য কোটাও সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স পুঁজিবাজারে কাজে লাগাতে গতকাল ভার্চুয়ালি গণশুনানিও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ভার্চুয়ালি বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা যুক্ত হন। দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সঙ্গে যৌথভাবে গতকাল এ গণশুনানি করে এসইসি।
গণশুনানিতে স্বাগত বক্তব্য দেন এসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। এতে সমাপনী বক্তব্য দেন এসইসির কমিশনার মো. আব্দুল হালিম। অনুষ্ঠানে এসইসির প্রতিনিধি হিসেবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম।
গণশুনানিতে ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, পুঁজিবাজারের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স কীভাবে সংযুক্ত করা যায়, তা নিয়ে কমিশন কাজ করছে। এ জন্য কমিশন প্রবাসীদের বিনিয়োগ সহজ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। ইতিমধ্যে প্রবাসীদের জন্য নিটার মাধ্যমে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এতে আগের ২ হাজার ৩০০ টাকার ব্যয় ৫৭৫ টাকায় নেমে এসেছে।
তিনি বলেন, বিও হিসাব খোলা সহজীকরণ করার লক্ষ্যে ডিজিটাল বিও চালু করা হয়েছে। এখন পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে বিও হিসাব খোলা যাবে। এ ছাড়া বিদেশে লেনদেন করার ক্ষেত্রে ডিজিটাল বুথ চালু করা হয়েছে। গত মাসে দুবাইয়ে একটি ডিজিটাল বুথ খোলার মাধ্যমে এ যাত্রা শুরু হয়েছে। ক্রমান্বয়ে বিশে^র বিভিন্ন দেশে এই বুথ চালু করা হবে।
শামসুদ্দিন বলেন, পুঁজিবাজার এখন অনেক উন্নত। এটাকে আরও উন্নত করার লক্ষ্যে কমিশন কাজ করছে। এই বাজারে প্রবাসীদের বিনিয়োগকে সাধুবাদ ও আমন্ত্রণ জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে এসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, কমিশন পুঁজিবাজারের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে আইপিও আবেদন থেকে লেনদেন শুরু হওয়া পর্যন্ত সময়ের ব্যবধান কমিয়ে আনার জন্য কাজ করা হচ্ছে। প্রতিটি আইপিওতে প্রবাসীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট কোটা রাখা হয়েছে। এটা যেন প্রবাসীরাই পায়, কমিশন সে লক্ষ্যে কাজ করছে।
গণশুনানিতে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি শরিফ আনোয়ার হোসেন, ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মতিন পাটোয়ারি এবং ডিএসইর লিস্টিং অ্যাফেয়ার্স বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার মো. রবিউল ইসলাম অংশগ্রহণ করেন।