আগামীকাল ১৭ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ঢাকায় কোনো ধরনের সমাবেশ না করার পাশাপাশি চলাচল সীমিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেছেন, এই সময়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও অতিথিদের নিরাপত্তার স্বার্থেই নগরবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। গতকাল সোমবার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস ফাউন্ডেশনের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি মইনুর রহমান চৌধুরী, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ১২৪ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে ১৩ লাখ ৬ হাজার টাকা বৃত্তি প্রদান করা হয়।
বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আমরা কয়েক দিন পরেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে যাচ্ছি। সেই সঙ্গে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী মুজিবশতবর্ষ উদযাপন করতে যাচ্ছি। করোনার সময়ে আমাদের সঙ্গে পাঁচটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান যুক্ত হবেন। এটি আমাদের জন্য সম্মানের বিষয়। ইতিমধ্যে ডিএমপির পক্ষ থেকে ঢাকাবাসীকে অনুরোধ করা হয়েছে ১৭ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত প্রয়োজন না হলে ঢাকায় চলাচল সীমিত রাখতে। ভিভিআইপিদের নিরাপত্তা প্রদান করা আমাদের রাষ্ট্রীয় কর্তব্য, দেশের কর্তব্য, জনগণের দায়িত্ব। যারা আসছেন তারা ১৮ কোটি মানুষের মেহমান। আমরা চাই জনগণ আমাদের এই মেহমানদের নিরাপত্তা প্রদানে সহায়তা করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সময়ে কোনো প্রকার সভা-সমিতি করা থেকে বিরত থাকার জন্য ডিএমপি থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। তারমধ্যে একটি বিসিএস পরীক্ষা (১৯ মার্চ) রয়েছে। আমরা সব মিলে নিরাপত্তার জন্য জনগণের সমর্থন চাই।’
আইজিপি বলেন, ‘জঙ্গিরা ইসলামকে কলঙ্কিত করেছে। জঙ্গিদের হাতে সবচেয়ে বেশি মুসলমানদের রক্ত ঝরেছে। সবাইকে জঙ্গিবাদ থেকে দূরে থাকতে হবে। ভারতীয় উপমহাদেশে বাঙালিরা মেধায় অনন্য। উপমহাদেশে আসা ৪টি নোবেলের তিনটিই পেয়েছে বাঙালিরা।’
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন আমেরিকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শিক্ষার্থী প্রেরণকারী দেশ। শিক্ষায় প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছেন। শুধু সার্টিফিকেটের জন্য লেখাপড়া নয় উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ‘আমরা দেয়াল পত্রিকায় লেখালেখি করতাম। তোমরা শুধু ফেইসবুকে না থেকে পড়ালেখা করবে।’ তিনি বলেন, যৌথ পরিবার ভেঙে অণু-পরমাণু হয়েছে। চূর্ণবিচূর্ণ হয়েছে। যৌথ পরিবারে খালা ফুফু দাদি থেকে পরামর্শ পাওয়া যেত। আমার সন্তানকে দিয়ে বুঝি যে সন্তানরা কত নিঃসঙ্গ। এখন শুধু বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করে। এখন আমরা আত্মীয়দের আসা পছন্দ করি না। আমাদের আড্ডা হয়ে গেছে অনলাইন নির্ভর। বাবা-মাকে বলব সন্তানদের সময় দিন। মেয়ে বাচ্চারা সাইবার ক্রাইম থেকে দূরে থাকতে পারে। বাচ্চাদের বলব, পিতামাতার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলবে। সব শেয়ার করবে বাবা-মার সঙ্গে।
তিনি বলেন, ধর্মীয় চর্চার রীতিনীতি থেকে দূরে সরে যাওয়া যাবে না। আমার ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে আমি বলব, ধমীয় চর্চা অপরাধ থেকে দূরে রাখে। তোমরা মাদক থেকে দূরে থাকবে। কৌতূহলে মাদক নিলে নিজের এবং পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে। বিদেশের মাটিতে অপপ্রচারের ব্যাপারে আইজিপি বলেন, বিদেশে গিয়ে এক শ্রেণির কুলাঙ্গার দেশের বদনামে লেগে যায়। তারা দেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলে কী অর্জন করতে চায়। দেশকে যারা ছোট করে তারা কুলাঙ্গার।