রেকর্ড ২০,৭৪৮ পরীক্ষা শনাক্ত ১৭১৯, মৃত্যু ২৬

দেশে নতুন করে করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে এবার এক দিনে রেকর্ডসংখ্যক নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২০ হাজার ৭৪৮ জন নমুনা পরীক্ষা করেছেন, যা দেশে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এ ছাড়া এক দিনে ২০ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষাও এবারই প্রথম। এর আগে গত বছর ১৫ ডিসেম্বর ২৪ ঘণ্টায় ১৯ হাজার ৫৪ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়, যা ছিল গতকালের আগ পর্যন্ত সর্বোচ্চ নমুনা পরীক্ষা। এ ছাড়া শেষ ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহেও রেকর্ড হয়েছে। এদিন ২৪ ঘণ্টায় ২০ হাজার ৯৩৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর আগে গত বছর ২০ সেপ্টেম্বর ১৯ হাজার ৭৮৭ জনের নমুনা সংগ্রহই ছিল এক দিনে সর্বোচ্চ নমুনা সংগ্রহের ঘটনা। গতকাল রেকর্ড পরীক্ষার দিনে দেশে নতুন করে আরও ১ হাজার ৭১৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিন শনাক্ত হার আগের দিনের চেয়ে সামান্য কমেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এদিন পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। আগের দিন সোমবার শনাক্ত হার ছিল ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা ছিল তার আগের ৮৬ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এদিকে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো গতকালও ২৬ জন করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করেছে। এক দিনে মৃত্যুর এই সংখ্যা গত দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে গত ৭ জানুয়ারি ২৪ ঘণ্টায় এরচেয়ে বেশি রোগীর মৃত্যু হয়েছিল। সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ২৩ জনই পঞ্চাশোর্ধ্ব।

গত বছরের মার্চে দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর গতকাল ছিল ৩৭৪তম দিন। সাড়ে ১২ মাসের এই করোনাকালে সংক্রমণ সর্বোচ্চ মাত্রায় ছিল গত জুন, জুলাই ও আগস্টে। তার পর থেকে সংক্রমণ কমতে শুরু করে। গত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সংক্রমণের নি¤œগতি অব্যাহত ছিল। কিন্তু চলতি মাসের প্রথম দিন থেকেই সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করে। নতুন রোগী শনাক্তের পাশাপাশি শনাক্ত হারও এ ক’দিনে ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে মৃত্যুও। এবার এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ নমুনা পরীক্ষার রেকর্ড গড়ল।

অধিদপ্তরের গতকালের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ২১৯টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২৯টি জিন-এক্সপার্ট, ৭২টি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ও ১১৮টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে গতকাল পর্যন্ত ৪৩ লাখ ৩ হাজার ৯৯৪টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫ লাখ ৬০ হাজার ৮৮৭ জন। মোট পরীক্ষার বিপরীতে গড়ে ১৩ দশমিক ০৩ শতাংশ লোকের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৮ হাজার ৫৯৭ জন এবং শেষ ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৩৫২ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছে ৫ লাখ ১৪ হাজার ৪৭৯ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫৩ এবং সুস্থতার হার ৯১ দশমিক ৭৩ শতাংশ। সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৭ এবং নারী ৯ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৫০১ পুরুষ ও ২ হাজার ৯৬ নারী মৃত্যুবরণ করেছে। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৫ দশমিক ৬২ ও নারী ২৪ দশমিক ৩৮ ভাগ।

সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২ জন ঢাকা বিভাগের। এ ছাড়া চট্টগ্রামে পাঁচ, খুলনা ও বরিশালে তিনজন করে, রংপুরে দুজন এবং সিলেট বিভাগে মারা গেছে একজন। এ নিয়ে করোনায় এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৮২৪ জন মারা যায় ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ৫৮৫, খুলনায় ৫৬৬, রাজশাহীতে ৪৮৪, রংপুরে ৩৬৬, সিলেটে ৩১২, বরিশালে ২৬৩ এবং ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ১৯৭ রোগী মারা গেছে। বয়স অনুযায়ী, সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ১৫, ৫১-৬০ বছরের ৮ এবং ৪১-৫০ বছরের ছিল ৩ জন। এদিন সবাই হাসপাতালে মারা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১১ রোগীকে আইসোলেশনে এবং ৮৫৯ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ৯ হাজার ৭৩১ এবং কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩২ হাজার ৬৫০ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোয় ১০ হাজার ৩০৫টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ২ হাজার ২৬৩টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ৫৫৮টি আইসিইউর মধ্যে এদিন রোগী ভর্তি ছিল ২৭১টিতে।