বিয়ে নিবন্ধনের সময় বর ও কনের বয়স যাচাই করতে জন্ম সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সনদ যাচাই-বাছাই করতে দেশের সব কাজীর (নিকাহ রেজিস্ট্রার) প্রতি নির্দেশনা দিয়েছে উচ্চ আদালত। ফেনীর সোনাগাজীতে এক কিশোরীকে অপহরণ করে বিয়ে ঘটনার মামলার আসামির জামিন আবেদনের শুনানিতে গতকাল মঙ্গলবার এমন আদেশ দেয় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
আদেশে ফেনী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার সিরাজুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে সোনাগাজীর ওই কিশোরীর বিয়ে নিবন্ধন করার ঘটনা তদন্ত করতে ফেনীর জেলা রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার আসামি জাহিদুল ইসলাম জাবেদকে জামিন দেয় হাইকোর্ট। আদালতে আসামির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শাহ ইমরান আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পি।
শাহ ইমরান আহমেদ জানান, ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার বগদানা গ্রামের এক কিশোরীকে পালিয়ে বিয়ে করেন একই উপজেলার আলমপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম জাবেদ (২৫)। এ ঘটনায় মেয়ের বাবা জাবেদকে আসামি করে গত বছর ১০ অক্টোবর সোনাগাজী মডেল থানায় অপহরণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করলে জাবেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর বিচারিক আদালতে জামিন চেয়ে ব্যর্থ হয়ে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন আসামি। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সারওয়ার হোসেন বাপ্পি বলেন, জামিনের আবেদনের ওপর শুনানিকালে কিশোরী মেয়ের বিয়ে পড়ানোর বিষয়টি আদালতের নজরে এলে সংশ্লিষ্ট কাজীকে তলব করে হাইকোর্ট। গত ৭ মার্চ কাজী হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চান হাইকোর্টের কাছে। তিনি ভুল স্বীকার করে বলেন যে মেয়েটির বয়স বেশি দেখানো হয়েছে। আদালত তখন বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ফেনী জেলার রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেয়।