সরকারি ঘর ও নলকূপ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে দুইশর বেশি হতদরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ভুঁইফোড় সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু পক্ষাঘাত ও পেশাজীবী পরিষদ (বিপিপিপি)’-এর মহাসচিব সেই আল-আমীনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাতে আটকের পর গতকাল মঙ্গলবার প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে বাড়ি ও সরকারি নলকূপ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঢাকার সাভারের বিরুলিয়া ও আশুলিয়া এলাকার দুইশর বেশি হতদরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আল-আমীনের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক দেশ রূপান্তরে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হলে তোলপাড় শুরু হয়। এরপর আল-আমীনের বিষয়ে খোঁজখবর শুরু করে সাভার উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তারা। তারই ধারাবাহিকতায় গ্রেপ্তার হলেন তিনি।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রতারক আল-আমীনের বিরুদ্ধে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্য সেলিনা আক্তার বাদী হয়ে প্রতারণার একটি মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল দুপুরে আল-আমীনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে প্রতারণার ঘটনায় আল-আমীনের কয়েকজন সহযোগী এখনো পলাতক রয়েছেন বলেও জানান পুলিশ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম।
‘বঙ্গবন্ধু পক্ষাঘাত ও পেশাজীবী পরিষদ’ নামে একটি ভুঁইফোড় সংগঠনের মাধ্যমে সরকারের ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ঘর ও নলকূপ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সংগঠনটির কথিত মহাসচিব আল-আমীনের প্রতারণার বিষয়টি অবহিত করে কিছুদিন আগে সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন একই সংগঠনের সভানেত্রী ঝুমা খান। ওই অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা যায়, সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে ঘর তৈরি করে দেওয়ার কথা বলে সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধি, নারী নেত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের নারী নেত্রীদের নিয়ে একটি প্রতারক চক্র গড়ে তোলেন আল-আমীন। তিনি আবার সাভার ডিবি কার্যালয় ভবনের নিচতলায় অবস্থিত ‘বিট ফেয়ার ফ্যাশন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকও (এমডি)। আল-আমীন নিজেকে ‘বঙ্গবন্ধু পক্ষাঘাত ও পেশাজীবী পরিষদ’-এর মহাসচিব পরিচয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে ঘর তৈরি করে দেওয়ার কথা বলে প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যদের মাধ্যমে বিরুলিয়া ও আশুলিয়া এলাকার দুইশ হতদরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।