অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বাংলাদেশ সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল, বাংলাদেশের মানুষ আজ সারা বিশ্বে গর্বের সঙ্গে নিজেদের প্রতীয়মান করতে পারছে। বর্তমান প্রজন্মের কিংবদন্তি ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হিরণ¥য়ী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ করেছে। আমাদের এই ঐতিহাসিক অর্জন তথা আধুনিক বাংলাদেশের ভিত বঙ্গবন্ধুর হাতেই রচিত হয়েছে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবস ২০২১ উপলক্ষে গতকাল বুধবার কুমিল্লার নাঙ্গলকোট, লালমাই ও সদর দক্ষিণ উপজেলা কর্র্তৃক আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান। বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুভাশীষ ঘোষ, নাঙ্গলকোট উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান ইউছুফ ভূঁইয়া, নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লামইয়া সাইফুল, লালমাই উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মালেক, লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম এবং কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ার।
মুস্তফা কামাল বলেন, বঙ্গবন্ধু সেই ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ, যিনি বাঙালি জাতিকে মুক্তির স্বপ্ন দেখিয়েছেন। মুক্তির সংগ্রামে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন এবং সুদীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে প্রকৃত স্বাধীনসত্তা উপহার দিয়েছেন, প্রতিষ্ঠা করেছেন স্বাধীন বাংলাদেশ। দীর্ঘ সাধনায় বাঙালির মানসলোকে তিনি সঞ্চার করেছেন স্বাধীনতার বাসনা। উপনিবেশ-শৃঙ্খলিত একটি ঘুমন্ত জাতিকে তিনি জাগ্রত করেছেন, তাদের করে তুলেছেন স্বপ্নমুখী, রক্তমুখী, মুক্তিমুখী। এই যে একটি জাতির মানস প্রকল্পকে জাগিয়ে তোলা এটাই বঙ্গবন্ধুর অক্ষয় অবদান।
তিনি আরও বলেন, কৈশোরকাল থেকেই বঙ্গবন্ধু মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে ছিলেন সোচ্চার। বাঙালির প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি পালন করেছেন নেতৃত্বের ভূমিকা। বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রধান শক্তি-উৎস ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে তিনি ছিলেন সর্বদা বজ্রকণ্ঠ। শুধু রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক মুক্তিই নয়, বাংলাদেশের ভাষা-সাহিত্য ও সংস্কৃতির মুক্তি-সংগ্রামেও অন্যতম নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু পালন করেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বস্তুত তার সাধনার মধ্য দিয়েই ভাষাঐতিহ্য ও সংস্কৃতিসম্ভব বাঙালির জাতীয়তাবাদের পূর্ণাঙ্গ রূপ সৃষ্টি হয়েছে। তার সৃষ্ট জাতীয়তাবাদের মহামোহনায় মিশেছে সমগ্র বাঙালি। বঙ্গবন্ধু শিশুদের অত্যন্ত পছন্দ করতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার প্রয়াস নতুন প্রজন্মই এগিয়ে নেবে। বঙ্গবন্ধুর জীবনী আগামী প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন, এ দুটি বিষয় যদি ঠিক না থাকে তাহলে একদিকে যেমন খাদ্য উৎপাদন করলেও সাপ্লাই চেইনের কারণে তা মানুষের কাছে পৌঁছাবে না, অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সঠিকভাবে বিতরণ করা না গেলে শিল্পকারখানা, শিক্ষা কোনোটাই হবে না। তাই এ দুটি বিষয়ের প্রতি তিনি অধিক গুরুত্ব প্রদান করেন। তিনি খাদ্য উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি দিয়েছিলেন।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন তার দেশের একজন মানুষও যাতে গৃহহীন না থাকে। তাই তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য গৃহনির্মাণ, পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনে মনোযোগ দেন। মাত্র সাড়ে তিন বছর সময়ে এ দেশের প্রত্যেক মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে বিদ্যুৎ, কৃষি ও সমবায়, শিল্প ও বিজ্ঞান, গৃহনির্মাণ, অর্থনীতি ও বাণিজ্য ব্যবস্থাপনা, শিল্প ব্যবস্থাপনা জাতীয়করণ, শিক্ষা ও সংস্কৃতি, প্রযুক্তি, ভূমি ব্যবস্থাপনাসহ নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছিলেন। তিনি স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের সব ক্ষেত্রে একটি শক্ত নীতিমালা, পরিকল্পনা, অবকাঠামো রেখে গেছেন।