সাবিনা ইয়াসমিনের পরিচয় নতুন করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তার খ্যাতি বহু আগেই দেশের সীমানা ছাড়িয়ে উপমহাদেশে পৌঁছে গেছে। এখন ঠিক আগের মতো গানে ব্যস্ত নন তিনি। তবে তার নতুন গানের জন্য অপেক্ষা প্রতিটি গানপাগল মানুষের। তিনিও সব সময় নতুন কিছু খোঁজেন। একই ধরনের কথা বা সুরের গানে এখন আর আগ্রহ পান না। তাই সংখ্যায় কম হলেও ভালো গানেই কণ্ঠ দেন। গতকালও গান নিয়ে একটি মিটিং করেছেন। তবে এখনই বিষয়টি শেয়ার করতে চাইলেন না। সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘গান আমার অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর যাই করি না কেন, গান শোনা, রেওয়াজ করা কিংবা গান নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলতেই থাকে। নতুন কয়েকটি প্রজেক্টের বার্তা চলছে। রেকর্ডিং করা হলে সবাইকে বলতে পারব।’
সম্প্রতি করোনার টিকা নিয়েছেন এই প্রখ্যাত শিল্পী। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা ভাগ্যবান যে অনেক দেশের চেয়ে আগে করোনার টিকা নিতে পেরেছি। সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা। করোনা টিকা সবারই নেওয়া উচিত। যারা ভাবছেন করোনা চলে গেছে তারা ভুল ভাবছেন। এখনো প্রতিদিন মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। দেশের বাইরে আবারও করোনার প্রভাব বাড়তে শুরু করেছে। সুতরাং আমাদের আরও বেশি সাবধানতা মেনে চলতে হবে। মাস্ক ছাড়া বাইরে যাওয়া যাবে না। বাইরে থেকে এসে নিজেকে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। আর যাদের সুযোগ আছে তাদের টিকা নেওয়া উচিত। টিকা নিয়ে আমার কোনো অসুবিধা হয়নি।’ করোনাকালে আমার সংগীতাঙ্গনের অনেককেই হারিয়েছি। তাদের প্রায় প্রত্যেকেই এই শিল্পীর কাছের মানুষ। এ প্রসঙ্গে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘অনেক কষ্ট পেয়েছি প্রিয়জনকে হারিয়ে। করোনার জন্য অনেককে শেষ দেখাটুকু দেখতে যেতে পারিনি। অনেকে তো করোনার কারণেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন।’
সংগীতের নতুন প্রজন্ম কেমন করছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ ভালো করছে। সব যুগেই সবাই ভালো করে না। ভালো, মোটামুটি, মন্দ তিন ধরনের শিল্পীই থাকে। যার যোগ্যতা আছে সে এগিয়ে যায়। তবে সমস্যা সেখানে নয়। সমস্যা হলো গানের সামগ্রিক অবস্থা কেমন সেটা। এখন যে গান হচ্ছে তা খুব বেশিদিন টিকছে না।’ নতুনদের প্রতি আপনার পরামর্শ কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গানকে মন থেকে ভালোবাসতে হবে। শুধু খ্যাতি, অর্থ বা গানের সংখ্যা না বাড়িয়ে গানে নিমগ্ন হতে হবে। আমি তো আমাদের দেশের একেবারে শুরুর দিকে কারা গান করতেন, লিখতেন, সুর করতেন, কে কী ধরনের গান করতেন সব জানি। এখনকার প্রজন্ম কিন্তু দু একজন বাদে অনেক বিখ্যাত শিল্পীকেও চেনে না। তাহলে তাদের গান বা অবদানকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেবে কারা? এটা বিরাট একটা শূন্যতা।’ তিনি আরও বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের বেশিরভাগ শিল্পী সেইসব লিজেন্ডদের গানই নিয়মিত স্টেজে, টিভি বা নানা প্ল্যাটফর্মে গাইছে। কিন্তু তাদের সম্পর্কে তেমন কিছুই জানে না। সবচেয়ে কষ্ট লাগে যখন দেখি যে গানটি করছে তার গীতিকার, সুরকার কিংবা মূল শিল্পীর নাম পর্যন্ত উল্লেখ করে না। এভাবে চলতে থাকলে যে শিল্পীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে কালজয়ী গান করে গেছেন তাদেরই মানুষ একদিন ভুলে যাবে। এটি যে কোনো দেশের সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বিরাট ক্ষতি।’
সাবিনা ইয়াসমিন সর্বশেষ ‘এই তুমি সেই তুমি’ সিনেমার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, প্রথমবারের মতো এই সিনেমার সংগীত পরিচালনা করছেন তিনি। ঢালিউডের মিষ্টি মেয়েখ্যাত কবরী পরিচালিত এই সিনেমা নিয়ে তিনি বলেন, ‘লকডাউনে অফুরন্ত সময় পাওয়ায় অনেক যতœ করে গানগুলো করেছি।’
সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘জহির রায়হানের আগুন নিয়ে খেলা ছবিতে ১৯৬৭ সালে আলতাফ মাহমুদের সুরে ‘মধু জোছনার দীপালি’ গান দিয়ে শিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলাম। এরপরস পেরিয়ে গেছে ৫৪ বছর। গায়কিকেই প্রাধান্য দিয়েছি সব সময়। এবার আত্মপ্রকাশ করছি সংগীত পরিচালক হিসেবে। এর আগেও অনেক বার সিনেমার সংগীত পরিচালনার প্রস্তাব পেয়েছি। কিন্তু রাজি হইনি। এই সিনেমাতেও প্রথমে আমি কাজটি করতে চাইনি। কিন্তু কবরীর অনুরোধ ফেলতে পারিনি। অবশেষে সিনেমার সব গানের সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হয়েছে আমাকে।’