শিশুর ডায়রিয়া প্রতিরোধে

আমাদের দেশে মায়েরা বাচ্চাদের যে সমস্যা নিয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তায় ভোগেন তা হলো ডায়রিয়াজনিত পেটের অসুখ বা শিশুর পাতলা পায়খানাজনিত সমস্যা। আমাদের দেশে শিশুমৃত্যুর হারও বেশি শুধু ডায়রিয়াজনিত অসুখের কারণে।

কারণ

শিশুর ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানাজনিত সমস্যাগুলোর মূল কারণ রোটাভাইরাস সংক্রমণ অথবা ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন।

মূলত দূষিত পানি বা বাসি-পচা খাবার খাওয়ানোর ফলে ডায়রিয়া হয়। বাচ্চাদের যেকোনো সময় ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হতে পারে। তবে এ সময় স্বাভাবিক খাবার ও তরলজাতীয় খাবার খেলে এমনিতেই সেরে যায়। এসব ক্ষেত্রে খুব বেশি জটিল চিকিৎসার প্রয়োজন নাও লাগতে পারে। কিন্তু ভয়ের বিষয় হলো বাচ্চা যদি নিস্তেজ হয়ে যায়, সেই সঙ্গে মুখে একদম কিছু না খেতে পারে, অনবরত বমি হয়, পায়খানার সঙ্গে রক্ত যায়, প্রস্রাব একেবারে কমে যায় এসব ক্ষেত্রে শিশুর জন্য মারাত্মক ঝুঁকি থেকে যায়। তখন দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বাচ্চাকে হাসপাতালে ভর্তি করা লাগতে পারে।

প্রতিকার

বাচ্চার বয়স ছয় মাসের কম হলে এর জন্য মূলত বুকের দুধই যথেষ্ট। ছয় মাসের ওপরের বাচ্চাকে স্বাভাবিক খাবার, তরল খাবার, বিশুদ্ধ পানি, খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, নরম ভাত বা খিচুড়ি, স্যুপ এগুলো খাওয়াতে হবে। পরিমাণে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, ডাবের পানি শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক যেকোনো রোগীর জন্য ডায়রিয়ার সময় খনিজ পদার্থ ও তরলের অভাব পূরণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এর সঙ্গে বাচ্চাকে জিংক সিরাপও দেওয়া যেতে পারে। বাজারে বেবি জিংক নামে পাওয়া যায়। এক চামচ পানিতে একটি ট্যাবলেট গুলিয়ে খাইয়ে দিতে হয়।

সতর্কতা

খাবার স্যালাইন কতটুকু দিতে হবে তা অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে হবে। কোনোভাবেই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো যাবে না। প্রয়োজনে শিশুকে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বা হাসপাতালে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে আসতে হবে।