ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী হবে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বলেছেন, ‘কারও প্রতিবাদ, আন্দোলনে সরকার চিন্তিত নয়। মোদির সফরের বিরোধিতা নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তা নেই। আমরা তাকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেব।’ গতকাল শনিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের ঢাকা সফর নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) মাশফি বিনতে শামস উপস্থিত ছিলেন।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরকে ঘিরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এবং ইসলামী সমমনা রাজনৈতিক দলসহ দেশের বেশ কয়েকটি বামপন্থি সংগঠন আপত্তি জানিয়ে আসছে।
নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফর নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী আসছেনএটা আমাদের জন্য আনন্দের। কেউ কেউ বিরোধিতা করছেন, আমাদের দেশ গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে নানা মতের লোক রয়েছেন। এ নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘মোদির সফর নিয়ে মৌলবাদীদের বিরোধিতা নিয়ে আমরা চিন্তা করছি না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানেন কীভাবে মৌলবাদীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়।’
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী আসছেন বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মান জানাতে ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। ডা. জাফরুল্লাহও তার (মোদি) সফর নিয়ে বিরোধিতা করেছেন।’ মোদির এই সফর নিয়ে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি না করতে সবার প্রতি অনুরোধ জানান প্রতিমন্ত্রী।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন কানেক্টিভিটি হলে সবার উপকার। শ্রীলঙ্কাও কোস্টাল শিপিং চুক্তি নিয়ে মোটামুটি রাজি। তারা বলছে বেসরকারি খাত এক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে পারে। যখন কোস্টাল সার্ভিস চালু হবে, তখন একাধিক সুযোগ-সুবিধা তৈরি হবে। বিমানপথে কনেক্টিভিটি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।’
বাংলাদেশে অনেক শ্রীলঙ্কান কাজ করে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কানেক্টিভিটির ওপর অনেক জোর দেওয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কানরা বিশ্বাস করে কানেক্টিভিটি এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা আমাদের পণ্য বিক্রি করার জন্য অন্য দেশগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকি। আমরা দক্ষিণ এশিয়াতে পণ্যের বাজার বাড়াতে পারি, আঞ্চলিক বাণিজ্য যদি বৃদ্ধি করতে পারি, তবে অন্যদিকে আমাদের তাকাতে হবে না। তারাও এই নীতির ওপর জোর দিয়ে বলেছে, এটাই এই অঞ্চলে ভবিষ্যৎ।’
২০১৭ সালে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার কথা থাকলেও গত তিন বছরে এটি কেন হয়নিজানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দিক থেকে আমরা বিষয়টিতে সম্মত হয়েছি, শ্রীলঙ্কা এক্ষেত্রে কিছুটা ধীরগতিতে যাচ্ছে।’
এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘২০১৭ সালে এই বিষয়ে (মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি) সম্মত হওয়ার পরে শ্রীলঙ্কায় রাজনৈতিক পরিবর্তন শুরু হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে এই বিষয়গুলো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। এখন আমরা সম্মত হয়েছি। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির যে স্টাডি সেটি চলবে এবং অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাণিজ্য চুক্তি করব।’
কোস্টাল শিপিং চুক্তি বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কলম্বো বন্দর বাংলাদেশ অনেক দিন ধরে ব্যবহার করে আসছে। আমরা উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তি নিয়ে কাজ করছি। এটি আমাদের অগ্রাধিকারের মধ্যে আছে।’
২০১৭ সালে তৎকালীন শ্রীলঙ্কান প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার সফরের সময়ে অনেকগুলি চুক্তি সই হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে পাঁচটি চুক্তি নবায়ন হয়েছে সেগুলো প্রতিটি মাহিন্দা রাজাপাকসে যখন প্রেসিডেন্ট তখনকার আমলে সই করা। আমরা আশা করি উভয়পক্ষ এগুলো বাস্তবায়ন করবে।’
দুদেশের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ দমন নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কলম্বোতে বোমা হামলার বিষয়টি শ্রীলঙ্কার পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়। আমরা বলেছি এক্ষেত্রে আমরা গোটা সমাজকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করছি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) বলেছেন এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান হচ্ছে জিরো টলারেন্স। এ বিষয়ে উভয়পক্ষ একসঙ্গে কাজ করবে। আমরা বলেছি সমুদ্র নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করতে পারি। যাতে করে অস্ত্র, মাদক ও মানব পাচার নিয়ন্ত্রণ করা যায়।