কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর পূর্ণ হলো গতকাল ২০ মার্চ। এখনো হত্যার রহস্য উদঘাটন ও হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্তেও তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। দীর্ঘ পাঁচ বছরে মেয়ের হত্যাকারীরা চিহ্নিত না হওয়ায় বিচার পাওয়ার আশা একপ্রকার ছেড়েই দিয়েছে তনুর পরিবার। তনুর মৃত্যুর পঞ্চমবার্ষিকী উপলক্ষে গত শুক্রবার বাদ জুমা জেলার মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুরে তাদের গ্রামের বাড়িতে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন, মা আনোয়ারা বেগম, বড় ভাই নাজমুল হকসহ পরিবারের লোকজন স্থানীয়রা অংশ নেন।
তনুর মা আনোয়ারা বেগম দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, ‘পাঁচ বছরে আসামিই খুঁজে পেল না পুলিশ। এখন আর আশা করি না। আমাদের ভাগ্যে মেয়ে হত্যার বিচার নাই।’
২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজের অদূরে ঝোপের মধ্যে তনুর লাশ পাওয়া যায়। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। হত্যাকান্ডের পরদিন অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন তনুর বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী ইয়ার হোসেন। এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে ভিক্টোরিয়া কলেজসহ পুরো দেশ। তবুও আশার আলো জ্বলেনি। দীর্ঘ সময়েও উন্মোচিত হয়নি হত্যাকান্ডের রহস্য।
তনুর মা আনোয়ারা বেগম ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডে জড়িত থাকতে পারে এমন সন্দেহপ্রবণ ব্যক্তির নাম প্রকাশ করলেও তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা আইনের মুখোমুখি করা হয়েছে কিনা তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। তিনি জানান, পিবিআই দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনবার মামলার তদন্তকারী সংস্থা ও চারবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বদল করা হয়। তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সন্দেহভাজন সার্জেন্ট জাহিদ ও তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি। তবে পুলিশের অন্য তদন্তকারী দল কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এখনো।
তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন আহম্মদের দাবি, মামলার ভালো অগ্রগতি হয়েছে।