দেশে করোনার টিকা নিতে মানুষের আগ্রহ কমছে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি টিকাদান কর্মসূচি শুরুর পর দুই সপ্তাহ পর্যন্ত টিকা নিতে বেশ আগ্রহ দেখা যায়। সে সময় কেন্দ্রগুলোতে টিকা নিতে বেশ ভিড় লক্ষ করা যায়। সক্ষমতার অনুপাতে টিকাগ্রহীধতা বেড়ে যাওয়ায় কিছু কেন্দ্রে টিকাদানে হিমশিম খেতে হয়। তবে পরে ধীরে ধীরে টিকার প্রতি মানুষের আগ্রহ কমতে থাকে।
একইভাবে টিকার নিবন্ধনের সংখ্যাও কমতে শুরু করেছে। ২৭ জানুয়ারি সন্ধ্যা থেকে নিবন্ধন শুরু হলেও নিবন্ধনে গতি আসে ৭ ফেব্রুয়ারি টিকাদান কর্মসূচি শুরুর দুই-তিন দিন পরে। প্রথমে অগ্রাধিকার তালিকায় সাধারণ নাগরিকের বয়স ৫৫ বছর ও তদূর্ধ্ব থাকায় নিবন্ধন কম ছিল। কিন্তু সেটা ৪০ বছরে নামিয়ে আনলে নিবন্ধন বাড়তে থাকে। তবে টিকাদান শুরুর এক মাসের মাথায়, বিশেষ করে মার্চে এসে টিকার নিবন্ধন ব্যাপকভাবে কমে যায়। গত ২১ দিনে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৯০ হাজার করে মোট ১৯ লাখের কিছু কম মানুষ টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন। অথচ এর আগে দৈনিক নিবন্ধনের সংখ্যা ছিল গড়ে ২ লাখ। অথচ দেশে তিন সপ্তাহ ধরে করোনার সংক্রমণ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এই তিন সপ্তাহের ঊর্ধ্বগতিতে রোগী শনাক্ত বেড়েছে তিন গুণের বেশি।
টিকার প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ায় সরকারের টিকাদান সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে এক দিনে তিন লাখ মানুষকে টিকাদানের সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশব্যাপী গণটিকাদান শুরুর পর গত ৪৩ দিনে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১ লাখ ১২ হাজার ৫৮০ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ টিকাদানের মূল সক্ষমতার মাত্র ৩৮ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে। টিকাগ্রহীতা না থাকায় বাকি ৬২ শতাংশ সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না সরকার।
বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে টিকার প্রতি মানুষের আগ্রহ খুবই কম। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের লোকজন টিকা নিলেও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে মানুষ টিকা নিতে আসছে না। এমনকি নিবন্ধন করার পরও তাদের টিকা নেওয়ানো যাচ্ছে না।
দেশে টিকার প্রতি মানুষের আগ্রহ কমের কারণ হিসেবে নিবন্ধন জটিলতাকেই এখনো মূল কারণ হিসেবে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি টিকা নিয়ে নানা ধরনের কথাবার্তা রক্তে জমাট বাঁধা, টিকা নেওয়ার পরও আক্রান্তের খবর এবং ইউরোপ-আমেরিকায় টিকা স্থগিত এসব কারণেও মানুষ ভয় পাচ্ছে; বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে টিকাদান শুরু না হওয়ায় এবং সেখানকার মানুষ টিকা নিতে না পারার কারণেও টিকাগ্রহীতার সংখ্যা কমছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ ব্যাপারে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, টিকাগ্রহীতা কমার মূল কারণ নিবন্ধন জটিলতা। মানুষ টিকার জন্য নিবন্ধন করতে এখনো বেশ ঝামেলার মধ্যে পড়ছেন। এই নিবন্ধনব্যবস্থা যত সহজ করা হবে, টিকাগ্রহীতা তত বাড়বে। সিস্টেম ঠিক আছে। কিন্তু সেটা সহজ করতে হবে। এ ছাড়া মানুষ নাগালের মধ্যে টিকাদান কেন্দ্র না পাওয়ায় টিকা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। অবশ্য সরকার ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকাদান কেন্দ্র নিয়ে যাচ্ছে। তখন টিকাদান বাড়বে।
তবে টিকা নেওয়ার ব্যাপারে মানুষকে ভয় না পেতে পরামর্শ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, টিকা নেওয়ার পর আক্রান্ত হলেও তার অবস্থা হাসপাতালে ভর্তির মতো অবস্থা হবে না। টিকা নেওয়ার তিন সপ্তাহ পর ও দ্বিতীয় ডোজের পর তখনই কেবল আমরা বলব যে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কমে আসবে। আইসিইউতে ভর্তির সংখ্যা বাড়বে না। এর আগে সাবধানে থাকতে হবে। ইউরোপ-আমেরিকায় দ্বিতীয় ডোজের পর মৃত্যুর হার অনেক কমে গেছে। মৃত্যু ও রোগের জটিলতা যদি কমে যায়, তাহলে করোনা সংক্রমণ নামিয়ে আনতে পারব। মৃত্যুহার যদি কমে, আমরা যদি এটুকু নিশ্চয়তা পাই যে গুরুতর অসুস্থ হব না, তাহলে আমাদের টিকা নিতেই হবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতেই হবে। তাহলে করোনা পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হবে।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি দেশে করোনার অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়া শুরু করে সরকার। গতকাল পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন ৪৮ লাখ ৪০ হাজার ৯৬৯ মানুষ। এর মধ্যে পুরুষ ৩০ লাখ ৪০ হাজার ৫২২ জন এবং নারী ১৮ লাখ ৪৪৭ জন। শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত টিকাদান কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হয়। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তিন কোটি ডোজ টিকা কিনেছে সরকার। এরই মধ্যে ৭০ লাখ ডোজ দেশে এসেছে। ভারত সরকার উপহার হিসেবে দিয়েছে আরও ২০ লাখ ডোজ টিকা।
টিকা ও নিবন্ধন দুটোই কমছে : গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশব্যাপী গণটিকাদান শুরু হয়। শুরুর পর প্রথম ও দ্বিতীয় দিন যথাক্রমে প্রায় ৩১ হাজার ও ৪৬ হাজার মানুষ টিকা নেন। তৃতীয় দিন অর্থাৎ ৯ ফেব্রুয়ারি দৈনিক টিকাগ্রহীতার সংখ্যা প্রথমবার লাখের ওপরে ওঠে। এরপর গত ১১ ফেব্রুয়ারি টিকাগ্রহীতার সংখ্যা আরও বেড়ে প্রথমবার দুই লাখের ওপরে ওঠে। পরের তিন দিন টিকাগ্রহীতার সংখ্যা দুই লাখের নিচে থাকলেও ১৫ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন দুই লাখের বেশি করে মানুষ টিকা নেন। এর মাঝে ১৮ ফেব্রুয়ারি এক দিনে আড়াই লাখের বেশি অর্থাৎ ২ লাখ ৬১ হাজার ৯৪৫ জন টিকা নেন, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে টিকাগ্রহীতা কমতে শুরু করে। কমতে কমতে ১১ মার্চ দৈনিক টিকাগ্রহীতা লাখের নিচে নামে। এরপর ১৮ মার্চ এক দিনের জন্য টিকাগ্রহীতা লাখের ওপরে উঠলেও গতকাল পর্যন্ত দৈনিক টিকাগ্রহীতা লাখের নিচেই রয়েছে। শেষ দুই দিনে অর্থাৎ গত শনি ও রবিবার টিকা নিয়েছেন যথাক্রমে প্রায় ৭৩ হাজার ও ৮০ হাজার মানুষ, যা গণটিকাদান শুরুর প্রথম দুদিনের পর সবচেয়ে কম।
একইভাবে কমছে টিকা নিবন্ধনের সংখ্যাও। গতকাল ছিল নিবন্ধন শুরুর পর ৫৪ দিন। মোট নিবন্ধণ করেছেন মোট ৬১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৭৮ জন। শুরুর দিকে নিবন্ধনের জন্য সর্বনিম্ন বয়স ৫৫ বছর নির্ধারণ থাকায় তখন নিবন্ধনকারীর সংখ্যা খুব কম ছিল। ৭ মার্চ দেশব্যাপী গণটিকাদান শুরুর পরদিন এই বয়স সীমা ৪০-এ নামানোর পর নিবন্ধনের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। যেখানে ৮ মার্চ পর্যন্ত প্রথম ১৩ দিনে প্রতিদিন গড়ে ৪০ হাজার করে মাত্র ৫ লাখের কিছু বেশি মানুষ টিকার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। সেখানে ফেব্রুয়ারির বাকি ২০ দিনে প্রতিদিন গড়ে পৌনে দুই লাখ করে নিবন্ধন করেছেন ৩৮ লাখ মানুষ। মার্চে এসে টিকার নিবন্ধন ব্যাপকভাবে কমেছে। মার্চের গত ২১ দিনে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৯০ হাজার করে মোট ১৯ হাজারের কিছু কম মানুষ টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন।
গ্রামের টিকার আগ্রহ কম : গ্রামাঞ্চলের মানুষের মধ্যে টিকার ব্যাপারে আগ্রহ কম বলে বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জনরা জানিয়েছেন। তবে তারা বলেছেন, গ্রামের মানুষ তাদের নাগালের মধ্যে টিকা পেলে টিকা নেবে।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. একরাম উল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, সারা দেশের মতো এখানেও প্রথম পর্যায়ে টিকার প্রতি মানুষের আগ্রহ ভালোই ছিল। পরে একটু কমে এসেছে। যারা নিবন্ধন করেছেন, তারা সবাই টিকা নেননি। আগে গোটা জেলায় দৈনিক ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার মানুষ টিকা নিতেন, পরে সেটা এক হাজারে নেমে আসে। টিকাগ্রহীতা বাড়াতে এখন ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। এখানে পুরুষ ৩২ হাজার ও নারী ১৮ হাজার টিকা নিয়েছেন। নারীদের টিকা নেওয়ার সংখ্যা কম।
গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. এ এম আখতারুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, টিকা নিতে খুব বেশি আগ্রহ নেই। শিক্ষিত ও সচেতনরা টিকা নিতে চান। কিন্তু গ্রাম পর্যায়ে লোকজন টিকা নিতে চান না। তাদের কাছে যাওয়াও হয়নি এত দিন। এখন তাদের কাছে যাচ্ছি। তখন হয়তো বাড়বে। এখানে ৩০ শতাংশ নারী ও পুরুষ ৭০ শতাংশ টিকা নিচ্ছেন।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, টিকার প্রতি আগ্রহের বিষয়টা বোঝা যাচ্ছে না। কারণ উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে টিকা দেওয়া হচ্ছে। এখানে অগ্রাধিকার তালিকার লোকজন টিকা নিচ্ছেন। গ্রাম পর্যায়ে দেওয়া হচ্ছে না। সেখান থেকে টিকা নিতেও কম আসছে।
নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার বলেন, ৭৫ শতাংশ টিকা দেওয়া হয়ে গেছে। টিকার প্রতি আগ্রহ কমে গিয়েছিল। এখন আমরা ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। তবে সব জয়গায় না, বিশেষ কিছু এলাকায় দেওয়া হচ্ছে। এটা সব জায়গায় নিশ্চিত করা গেলে টিকার আগ্রহ বাড়বে। নারীরা কম নিচ্ছেন। পুরুষ বেশি দিচ্ছেন।
টিকায় আগ্রহ বাড়াতে কাজ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর : দুই কারণে টিকাগ্রহীতা কমেছে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ ব্যাপারে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, কমার কারণের মধ্যে একটি হলো যারা উপজেলা পর্যায়ে ও জেলা শহরে থাকেন, তারা প্রথমদিকে টিকা নিয়েছেন। আরেকটি হলো প্রত্যন্ত অঞ্চলের কেউ ইউনিয়ন পর্যায়ে নিবন্ধন করেছিলেন, তারা এখন আর উপজেলায় এসে টিকা নিচ্ছেন না। তাদের এখন ধান বোনার সময়। তার একটি দিন নষ্ট হয়। সে জন্য তারা আর আসেন না। আমরা ফোন করে দেখি নিবন্ধন করেছেন, কিন্তু তারপর আর টিকা নিতে আসেননি।
এই কর্মকর্তা বলেন, টিকাগ্রহীতা বাড়াতে আমরা গ্রামের জন্য টিকাদান কর্মসূচি ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছি। ইউনিয়নে যেসব ৫০-২০ শয্যার হাসপাতাল আছে, সেখানে টিকা নেওয়ার ব্যবস্থা করছি, যাতে এসব জায়গা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসে। দুর্গম অঞ্চলগুলোয় ক্যাম্পেইন করার ব্যবস্থা করছি।
মোট টিকা বিতরণের ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে এই বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা বলেন, দেশে আসা ৯০ লাখ টিকার মধ্যে ৭০ লাখ বিতরণ করেছি। বাকি ২০ লাখ দ্বিতীয় ডোজের জন্য রেখেছি। এই টিকায় এখন আমরা হাত দিচ্ছি না। সে কারণে এই ৭০ লাখ টিকা যেভাবে চলছে, সেটা নিয়ে আমরা চিন্তিত নই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই টিকা শেষ হবে। এর মধ্যে আরও টিকা চলে এলে সেটা প্রথম ডোজ ও এদের দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে দেওয়া শুরু করব। তখন আমরা প্রচার-প্রচারণায় আরেকটু জোর দেব, টিকাগ্রহীতা বাড়াতে আরও কোথায় জোর দেওয়া উচিত, সেটা আমরা ব্যবস্থা নেব।
এই বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা বলেন, টিকা নেওয়ার পর আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেটা আমরা আগেও বলেছি। সে জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এখন পর্যন্ত যে ৪৮ লাখ মানুষ টিকা নিয়েছে, তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০০-এর কম লোক আক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু টিকাগ্রহীতাদের মধ্যে একটা অংশ আক্রান্ত হতেই পারে। তবে এই আক্রান্ত নিয়ে শঙ্কার কিছু নেই। আক্রান্তরা জটিল রোগে পড়বেন না। এ জন্য টিকা নেওয়ার পরও মাস্ক পরতেই হবে। অথচ টিকা আসার পর মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে চরম শৈথিল্য দেখা যাচ্ছে। মানুষ একদমই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। যে কারণে সংক্রমণ আবার বেড়ে গেল।
রোজা ও সামনের গরম আবহাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় টিকা বিতরণ ব্যবস্থাপনায় কিছুটা পরিবর্তন আনা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, তবে সেটা বড় কিছু নয়। তখন এখনকার মতো দীর্ঘসময় টিকা না দিয়ে সময় কিছুটা কমিয়ে দেওয়া হবে। কারণ যারা টিকা নেবেন ও টিকা দেবেন, তারা রোজা রাখবেন। তখন আবহাওয়াও গরম থাকবে।
সচেতনতামূলক প্রচারণায় জোর দেওয়ার পরামর্শ : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনস্বাস্থ্যবিষয়ক কমিটির উপদেষ্টা ডা. আবু জামিল ফয়সাল এ ব্যাপারে দেশ রূপান্তরকে বলেন, মানুষ যে হারে টিকা নেওয়া শুরু করেছিলেন, তারপরই টিকা নিয়ে বিভিন্ন রকম কথাবার্তা শুনতে পাচ্ছেন লোকজন। এ ছাড়া এই টিকা প্রথম ডোজ দেওয়ার পর কোনো সুরক্ষা হয় না। সুরক্ষা শুরু হয় তিন সপ্তাহ পর থেকে। তখন শরীরে রোগের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি জন্ম নেয়। এমনিতেই টিকার প্রতি মানুষের অনীহা ছিল। তার ওপর এসব কথাবার্তা শুনে অনীহা আরও বেড় গেল। এই সব জিনিস সম্পর্কে মানুষকে আরও বেশি করে বোঝানোর যে কাজ, সেটা সরকার করছেই না। সরকারকে এর পেছনে লেগে থাকতে হবে। টিকাদান কর্মসূচি শুরুর আগে ও শুরুর প্রথম দিকে টিকাদানের ব্যাপারে সরকারের যে চেষ্টা ছিল, সেই পরিমাণ চেষ্টাটা এখন নেই।
এই বিশেষজ্ঞ বলেন, অবশ্যই টিকা নিতে হবে। টিকা দরকার। দুইটা ডোজ নিতেই হবে। প্রথম ডোজ নেওয়ার তিন-চার সপ্তাহ পর্যন্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হতে সময় লাগবে। টিকা নেওয়ার পরও স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। এই ভাইরাস নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। অনেক কিছুই জানি না। জানার চেষ্টা করছি। আস্তে আস্তে মানুষ ভাইরাসটা সম্পর্কে জানতে পারবে। আরও স্পষ্ট হবে। এ জন্য এখন টিকার ওপর কোনো অনীহা দেখানো যাবে না। পরিস্থিতি বুঝে টিকার প্রতি মানুষের আগ্রহ তৈরি করতে প্রয়োজনে সরকারের টিকাদান কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনতে হবে।