ভাইরাসঘটিত যন্ত্রণাদায়ক ও ছোঁয়াচে রোগ মাম্পস। দুই কানের নিচে চোয়ালের পেছনে অবস্থিত প্যারোটিড গ্রন্থি মাম্পস নামক ভাইরাস দিয়ে আক্রান্ত হলে এ সমস্যা দেখা দেয়। সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশি দিলে বা সর্দি ঝাড়লে তার সূক্ষ্ম কণাগুলো বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্য সুস্থ ব্যক্তির নাক, চোখ বা মুখ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে এই রোগের সংক্রমণ ঘটায়। এ ছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে খাবার ও পানীয় ভাগাভাগি করার মাধ্যমেও মাম্পস ছড়াতে পারে।
লক্ষণ
মাম্পস ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ১৪ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে প্রথমে জ্বর, মাথাব্যথা, গলাব্যথা এবং কানের নিচে ব্যথা নিয়ে রোগটির লক্ষণ শুরু হয়। শরীরের তাপমাত্রা কয়েক দিন পর্যন্ত ১০২ থেকে ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট থাকতে পারে। পরে একদিকের প্যারোটিড গ্রন্থি ফুলে ওঠে ও ব্যথা হয়। আরও পরে অপর পাশের গ্রন্থিটিও ব্যথা হয়ে ফুলে ওঠে। তবে মাম্পসের সঙ্গে সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন না থাকলে সাধারণত কোনো পুঁজ তৈরি হয় না। এ সময় রোগী অস্বস্তি অনুভব করে ও ভালো করে মুখ খুলতে পারে না। সেই সঙ্গে মুখে দুর্গন্ধ, চোয়াল শক্ত হয়ে যাওয়া এবং ঢোক গিলতে ও খেতে কষ্ট হয়। ঘাড়, কান কিংবা গলাও আক্রান্ত হয়ে পড়ে এ রোগে।
করণীয়
সাধারণত মাম্পস নিজে নিজেই সেরে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন এনকেফেলাইটিস, শ্রবণশক্তিতে সমস্যা, অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ ইত্যাদি। গর্ভবতী নারীর মাম্পস হলে এ থেকে গর্ভপাত হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। এ রোগের আসলে নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। তাই উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন। সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হলে সেজন্য অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ প্রয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। জ্বর ও ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল-জাতীয় ওষুধ সিরাপ/ট্যাবলেট/সাপোজিটরি বয়স অনুসারে দেওয়া যেতে পারে। রোগীকে আলাদা ঘরে কমপক্ষে দুই থেকে তিন সপ্তাহ রাখা উচিত। রোগীর ব্যবহৃত কাপড়, জিনিসপত্র গরম পানি দিয়ে ভালো করে ধোয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি রোগীকে প্রচুর তরল খাবার পান করানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তবে মিষ্টি পানীয় বা জুস ইত্যাদি না খাওয়ানোই ভালো। কারণ এগুলো লালাগ্রন্থিকে উদ্দীপ্ত করে ব্যথা আরও বাড়িয়ে দেয়। তরল বা আধা তরল নরম খাবার খেলেও ব্যথা কিছুটা কম হয়। ব্যথা কমানোর জন্য ফোলা জায়গার ওপর বরফ বা ঠা-া সেঁক দেওয়া যেতে পারে।
বর্জনীয়
আক্রান্ত অবস্থায় রোগীর প্রচণ্ড জ্বর ও ঘাড় শক্ত হয়ে গেলে, নারীদের ক্ষেত্রে তলপেটে ব্যথা করলে ও পুরুষদের ক্ষেত্রে অণ্ডকোষে ব্যথা মাম্পসের জটিলতা নির্দেশ করে। এ ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ছোঁয়াচে বলে এ রোগ হলে শিশুকে খুব কাছ থেকে আদর করা বা চুমু দেওয়া ঠিক নয়। এতে রোগটি অন্য ব্যক্তির মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। রোগীকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং কবিরাজের কাছ থেকে কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক বা অপচিকিৎসা করানো যাবে না।
প্রতিকার
এ রোগের প্রতিকারে মাম্পস টিকা গ্রহণ করা নিরাপদ। টিকা সাধারণত এক বছরের ওপরের শিশুকে এককভাবে কিংবা অন্যান্য টিকা যেমন হাম বা রুবেলার টিকার সঙ্গে একসঙ্গে দেওয়া যায়।