ধর্মপাশায় শ্মশান নির্মাণে মেম্বারের বাধা, আহত ৩

সুনামগঞ্জের শাল্লার নোয়াগাঁও গ্রামে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ধর্মপাশায় একই ধরনের হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। গত রবিবার রাতে সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের পাথারিয়া কান্দাগাঁও গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য (মেম্বার) আজিজুল হক ও তার পরিবার গ্রামের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের ওপর ওই হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হামলায় সুবল বর্মণ (৩০), অমল বর্মণ (২৬) ও দীপ্ত বর্মণ (২৪) নামে তিন যুবক গুরুতর আহত হন। তাদের সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের ওপর হামলায় জড়িত অভিযোগে ইউপি সদস্য আজিজুল হকের ভাই আশাদুল ইসলামকে (৩৭) আটক করেছে পুলিশ।

গ্রামবাসী ও স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কান্দাগাঁও গ্রামের অস্থায়ী শ্মশান স্থায়ীভাবে নির্মাণ করতে গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছ থেকে চাঁদা তুলে গ্রামের পশ্চিমে বিলের পাড়ে নতুন করে শ্মশান নির্মাণকাজ শুরু করে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। কিন্তু নির্মাণকাজের শুরু থেকে সেখানে মরদেহ দাহ করা হলে দুর্গন্ধ বের হবে এমন অভিযোগ তোলেন ইউপি সদস্য আজিজুল হক। ওই জায়গায় শ্মশান না করার জন্য বাধা দিয়ে আসছেন তিনি। এদিকে নির্মাণাধীন শ্মশানের যাতে কেউ ক্ষতি করতে না পারে সেজন্য শ্মশানের পাশে ছোট ঘর তৈরি করে দিনরাত পাহারা দিচ্ছেন গ্রামের কয়েকজন। পরে গত রবিবার রাতে ইউপি সদস্য ও তার পরিবারের লোকজন শ্মশান পাহারার কাজে থাকা হিন্দু সম্প্রদায়ের যুবকদের ওপর হামলা করেন। এতে সুবল বর্মণ, অমল বর্মণ ও দীপ্ত বর্মণ গুরুতর আহত হন। পরে গ্রামের লোকজন তাদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ওই শ্মশানঘাট নির্মাণে বাধা দিয়ে আসছিলেন। সেটা নিয়েই ওদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। মেম্বার একটু উগ্র মেজাজের। হামলার খবর শুনেই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। আহতদের সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

অন্যদিকে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ধর্মপাশা সার্কেল) সুজন চন্দ্র সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হামলার ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। এখনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

ইউপি সদস্য আজিজুল পলাতক রয়েছেন বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।