উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন নিহত ২, পুড়ে ছাই ১০ হাজার ঘর

কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে অন্তত ১০ হাজার ঘরবাড়ি। দগ্ধ হয়ে অন্তত দুজনের মারা যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ও স্থানীয়দের ছয় ঘণ্টার চেষ্টায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে রাত ১১টার দিকে নিয়ন্ত্রণে এলেও কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে আগুন জ¦লতে দেখা গেছে। অগ্নিকাণ্ডের পর রোহিঙ্গারা ঘরবাড়ি ছেড়ে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের পাশে অবস্থান নিয়েছে। চার ঘণ্টা বন্ধ ছিল ওই সড়কে যান চলাচল। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে পুরো ক্যাম্প এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় গ্রামবাসীর সহযোগিতায় পাঁচ রোহিঙ্গা যুবককে পুলিশে দেওয়া হয়েছে এ অগ্নিকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, আগুনের সূত্রপাত গ্যাস সিলিন্ডার থেকে।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের দলনেতা ইমদাদুল হক জানান, বেলা সাড়ে ৩টার দিকে উখিয়ার বালুখালী ৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুনের সূত্রপাত হয়। রাত পৌনে ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে আগুন জ¦লতে দেখা যাচ্ছে। আগুনের সূত্রপাত গ্যাস সিলিন্ডার থেকে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সেটাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তিনি জানান, আগুন লাগার কিছুক্ষণ পরেই ৯, ১০ ও ১১ নম্বর ক্যাম্পেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে বেশি ক্ষতি হয়েছে ৯ নম্বর ক্যাম্পে। সেখানে ৯৪টি ব্লকের মধ্যে ৮৬টি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে অন্তত ১০ হাজার ঘর পুড়ে গেছে। এর মধ্যে স্থানীয়দেরও শতাধিক ঘর রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গারা জানায়, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় ও রোহিঙ্গারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। খবর পেয়ে বিকেলের দিকে ঘটনাস্থলে রামু, উখিয়া, টেকনাফ ও কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট আগুন নেভাতে চেষ্টা চালায়।

সন্ধ্যায় সরেজমিন দেখা গেছে, অনেক রোহিঙ্গা নরনারী সহায়-সম্বল হারিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উখিয়ার বালুখালী পানবাজার থেকে থাইংখালী পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশে রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের উখিয়া স্টেশন, রামু স্টেশন ও কক্সবাজার স্টেশনের সাতটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ মোহাম্মদ তানজীম জানান, কীভাবে আগুন লেগেছে তা এখনো জানা নেই। আগুন নেভাতে সবাই কাজ করছে।

ঘটনার খবর পেয়ে বিকেলে উখিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন আহমেদ ঘটনাস্থলে যান। তিনি রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন ক্যাম্পে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কাল (আজ) সকাল থেকে তাদের রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা করা হবে।

বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান ও শরণার্থী ও ত্রাণ প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজোয়ান হায়াত ঘটনাস্থলে পৌঁছেন।

বিকেলে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এনজিওকর্মী সাইফুল ইসলাম বলেন, শুরুতে এ আগুন ৮নং ক্যাম্পে লাগলেও ধীরে ধীরে তা ৯, ১০, ১১ নম্বর ক্যাম্পে ছড়িয়ে পড়ে। চারদিকে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। অবস্থা খুব খারাপ।

গণ-উন্নয়ন কেন্দ্রের মাঠকর্মী আবু ছাদেক বলেন, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগে আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে সব এনজিওকর্মী নিরাপদে সরে যান।

ক্যাম্পের বাসিন্দা আবুল হোসেন ও আলমগীর বলেন, বিকেলের দিকে আগুন লাগার পর দ্রুতই তা ছড়িয়ে পড়ে। অধিকাংশ ঘর থেকে কোনো ধরনের মালামাল বের করা সম্ভব হয়নি।

উখিয়া সীমান্তবর্তী পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা দিতে ক্যাম্পে অবস্থান করছি। আগুনে ঘরবাড়ির পাশাপাশি এনজিও পরিচালনাধীন হাসপাতাল, স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারও পুড়ে গেছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন অতিরিক্ত কমিশনার মো. সামছু-দ্দৌজা বলেন, উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুপুরে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এ ঘটনায় ৯ হাজার ৬০০ ঘর পুড়ে গেছে। তবে তাৎক্ষণিক হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, আগুন নেভানোর জন্য ফায়ার সার্ভিস, উখিয়া পুলিশ, এপিবিএন, উপজেলা প্রশাসন দ্রুত আগুন নেভানোর জন্য একযোগে কাজ করেছে। ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত পরে জানা যাবে।